নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের কাকাব এলাকার ইকরাম আলী গং ও সৈয়দ আলী গংয়ের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ইকরাম আলী দেওয়ানকে মারধর ও মারাত্মক ভাবে জখম করেন। সৈয়দ আলী গং তিন ভাই সৈয়দ আলী,ইয়াদ আলী,কালু দেওয়ান ও তার স্ত্রী লাইলি বেগম তারা সবাই মিলে আমাকে মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে আশেপাশের লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ‍্য কেন্দ্রে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ইকরাম আলী দেওয়ান। পরে পুলিশকে ফোন দিলে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার সত‍্যতা পান। এবিষয়ে সাভার মডেল থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।

বিজ্ঞ আদালতের ১৪৫ ধারায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও তা উপেক্ষা করে ঘর বাড়ি ভাংচুর করেন কালু দেওয়ান। এবিষয়ে আদালতে উভয় পক্ষেই পাল্টাপাল্টি মামলা করেন।

বিরুলিয়া কাবাবরের স্থায়ী বাসিন্দা হরযত আলী দেওয়ানের পাঁচ ছেলে দুই মেয়ে রেখে মারা যান। ছেলেরা সকলেই যার মত সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে থাকেন। ছেলেরা সবাই মোটামুটি ভাবে স্বাবলম্বী। তারা পিতার অবর্তমানে সবাই পৈতৃক সম্পত্তির সমান সমান ভাগিদার বটে।

মৃত হযরত আলীর যথাক্রমেঃ ১। সৈয়দ আলী দেওয়ান ২। ইয়াদ আলী দেওয়ান ৩।রমজান আলী দেওয়ান ৪।ইকরাম আলী দেওয়ান ৫।কালু দেওয়ান ও দুই মেয়ে ৬। নারগিস এবং ৭।বিলকিস। মৃত হযরত আলী দেওয়ানের মোট জমির পরিমান ৮৪ শতাংশ তার মধ্যে দুই মেয়েকে ৫শতাংশ ও বাকি ৭৯শতাংশ পাঁচ ছেলেদের নামে লিখে দিয়ে মারা যায়। বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে যানাযায়,মূলত তাদের ভাইয়ে ভাইয়ে ঝামেলার কারন সম্পত্তির সমান সমান বন্টন নিয়ে। এনিয়ে স্থানীয়ভাবে বহু বার দরবার শালিশী হয়েছে তাদের এ শালিশী নিয়ে স্থানীয় শালিশদারেরাও বিরক্ত। রমজান আলী ও ইকরাম আলী দেওয়ান বলেনঃ আমরা শান্তি প্রিয় মানুষ আমাদের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে এ যাবৎ ভালোই চলছিল। আজ দুই তিন বছর ধরে সৈয়দ আলী, ইয়াদ আলী ও ছোট ভাই কালু দেওয়ান আমাদের পিতার রেখে যাওয়া বসত বাড়ীর জমি সমানভাবে বন্টন করতে চাইলে তারা তা মানতে রাজি না। তারা আমাকে ও ভাই রমজানকে সমান সমান বন্টন দিবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। আর এনিয়েই মূলত আমাদের সাথে এত ঝামেলার কারন। আমাকে বহু বার মারধর করে জখম করেছে এনিয়ে বহু বিচার শালিশ হয়েছে অবশেষে মামলা পযর্ন্ত হয়েছে। কয়েক দফায় মেরে ফেলার জন্য আক্রমণ করেন মানুষজন এসে আমাকে প্রাণে রক্ষা করেন। এখনো মেরে ফেলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উল্টো আমাকে একের পর এক হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দিয়ে যাচ্ছে। আমরা কোন উপায় না পেয়ে অবশেষে আমরা দুই ভাই, সৈয়দ আলী গংয়ের বিরুদ্ধে পাল্টা ফৌজদারী মামলা করি যাহার নং- ৬৮৩/২২ইং। এবং গত ৫/১২/২২ইং সি,আর,মামলা নং-১৯৩০ করে যখন আমরা বিকেলে বাড়িতে আসি ঠিক তখনই সৈয়দ আলী গং সহ আরো ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাত নামা লোক এসে অতর্কিত ভাবে আমার উপর( ইকরাম আলীর উপর ) হত‍্যার উদ্যেশে হামলা চালায়। আদালতের ১৪৫ধারায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও বাড়ি ঘর ভাংচুর মারাত্মক ভাবে জখম ও বাড়ি ঘর লুটপাট করে মুল‍্যবান জিনিসপত্র দামি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, স্বর্ণ-অংলকারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতিয়ে নেয় এবং জানে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেন। কালু দেওয়ানের শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রভাবশালী চেয়ারম্যান হওয়াতে কালু কোন বিচারের ধার ধারেননা। কাউকে পাত্তা দেয়না এলাকার বিচার শালিস থানা পুলিশ দুই দুই বার মিমাংশা করেন তাও মানেনি এমনকি আদালতের নির্দেশও মানেনা। ইকরাম আলী আরো বলেনঃ বিগত ৮-৯ মাস আগে কালু দেওয়ানের শ‍্যালক বতর্মান চেয়ারম্যানের ছোট ভাই জুয়েল মন্ডল আমাকে ডেকে নিয়ে চড়থাপ্পর মেরে শাসিয়ে দেন আর বলেন ভবিষ্যতে কালুর ব‍্যপারে যেন কারোর কাছে বিচার না চাই এবং আমাকে বলে তুই ভালো হবিনা, ভালো না হলে তোকে জানে মেরে ফেলবো। এমতাবস্থায় আমি প্রতিনিয়ত আতংকের মধ্যে জীবন যাপন করছি। এঘটনার বিষয়ে জুয়েল মন্ডলের মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমর্মে বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম‍্যাজিঃ ও সাভার আমলী আদালতে ১১জনকে আসামি করে মামলা করি। আসামিগন হলো ঃ আমির হোসেন (৪০) পিতা-অয়ালিম মাদবর,সৈয়দ আলী দেওয়ান(৬০),ইয়াদ আলী দেওয়ান(৫৫),কালু দেওয়ান সর্ব পিতা-মৃত হযরত আলী দেওয়ান, উজুফা খাতুন (৪০) পিতা -নয়া মিয়া লাইলি বেগম (৩৫) স্বামী কালু দেওয়ান,মুজাম (৩৫)রুবেল (৩০)উভয় পিতা-ইয়াদ আলী দেওয়ান, আঃ সালাম (৩০)রনি (২৮)উভয় পিতা- সৈয়দ আলী দেওয়ান। এসকল বিষয়ে সৈয়দ আলী,ইয়াদ আলী,কালু দেওয়ানের কাছে জানতে চাইলে তারা কোন সদ‍‍্যুত্তর দিতে পারেনি।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ