মাদারীপুর জেলা প্রধান

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আগমন উপলক্ষে আল্লাহর শুকরিয়ার্থে শরীয়ত সম্মতভাবে খুশি উদযাপন করাই হলো ঈদে মিলাদুন্নবী (সা :)।

ঈদ অর্থ আনন্দ-খুশী, উৎসব। আর মিলাদ শব্দের অর্থ জন্ম বা জন্মবৃত্তান্ত। কোন নেয়ামত ও রহমত লাভ করলেই আনন্দোউৎসব করা যেরূপ মানুষের স্বভাবজাত কাজ তদ্রুপ আল্লাহ তায়ালার নির্দেশও তাই।

দীর্ঘদিন পর্যন্ত এ ধারায় নবী রাসূলের আগমন ঘটেনি। এমতাবস্থায় বিশ্বের সর্বত্রই অত্যাচার-অনাচার, কুসংস্কার, নিষ্ঠুরতা ও সামাজিক দ্বঃন্ধ-সংঘাতের মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। চরমতম মানবিক অসাম্য ও মানবাধিকার বৈষম্যের ঘোর অন্ধকার যুগে আবির্ভূত হলেন সাইয়্যেদুল মোরছালিন খাতামুন্নাবীয়্যিন রাহমাতাল্লি আলামিন মানবতার মুক্তির দিশারী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

হযরত মা আমেনা বলেন তাঁর জন্মলগ্নের পর মুহূর্তেই একটা নূর প্রকাশিত হল যার আলোতে পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের সবকিছু আলোকিত হয় এবং যার আলোতে সিরিয়ার শাহী মহল মা আমেনা দেখতে পান। (বায়হাকী দালায়েলুন নবুওত মুসনাদে আহমদ)

রাসূলে পাক (সঃ) দুনিয়াতে তশরিফ আনার সাথে সাথে ক্বাবা শরীফ মাকামে ইব্রাহীমের দিকে ঝুঁকে পড়ে রাসূলেপাক (সঃ) এর বেলাদাতের তাজিম করেছিল। (মাদারেজুন্নবুয়ত)

স্রষ্টার সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব নুরুন্নবী (সঃ)-এর শুভাগমন, যা কোরআন পাকে ঘোষিত হয়েছে। আল্লাহ বলেন-“হে রাসূল (সঃ) আপনি বলুন, তোমরা আল্লাহর নিয়ামত ও রহমত প্রাপ্তিতে আনন্দোউৎসব কর। তোমাদের পুঞ্জিভূত সম্পদ অপেক্ষা এটি কত উত্তম!” (সূরা ইউনুছ-৫৮)

আল্লাহ পাক বলেন-হে রাসূল (সঃ) ‘আমি আপনাকে সমগ্র জাহানের জন্য একমাত্র রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আম্বিয়াঃ১০৭)

পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে- “নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে এক উজ্জ্বল জ্যোতি (নূর) ও সুস্পষ্ট কিতাব তোমাদের নিকট এসেছে। (সূরা মায়েদাঃ ১৫)

হযরত আলী (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি নূরুন্নবী (সঃ)-এর মিলাদ শরীফের সম্মান করবে তার মৃত্যু ঈমানের সাথে এবং বিনা হিসাবে বেহেস্তে যাবে।” (আলনিয়া মাতুল-কোবরা আলাল আলাম)। নূরনবী (দঃ)-এর রওজা শরীফে ৭০ হাজার ফেরেস্তা আকাশ হতে জুলুছ (মিছিল) সহকারে দৈনিক ২ বার ফজরে ও আছরে আসে এবং সালাম পেশ করতে থাকে। কিয়ামত পর্যন্ত এ নিয়ম চলতে থাকবে। হযরত আদম (আঃ) হতে হযরত ঈসা (আঃ) পর্যন্ত সকল নবী ও রাসূলগণ ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ)-এর মজলিস পালন করতেন (মাদারেজুন্নবুয়ত)।

(সূরা আহযাবঃ৫৬)। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে রাসূল (সঃ) এর মর্যাদা কত বেশি এবং তার মিলাদুন্নবী পালন করা ও তার প্রতি দরুদও সালাম পেশ করা কত জরুরি। হযরত আল্লামা আব্দুল হক মোহাদ্দেছে দেহলভী (রঃ) তাঁর “মাসবাতা মিনাচ্ছুন্নাহ” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন- হাজার মাসের চেয়ে উত্তম লাইলাতুল কদর, ফজিলতের রাত্রি শবে বরাত, শবে মিরাজ, দুই ঈদের রাত এসবই রাহমাতাল্লিল আলামনিকে দান করা হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা তাঁর ফেরেস্তাদের নিয়ে এবং নবী-রাসূল, সাহাবী, ওলী-আউলিয়া সবাই নবীর প্রতি যথাযথ দরুদ ও সালাম সম্মান প্রদর্শনসহ মিলাদুন্নবী (সঃ) পালন করে আসছেন, সেখানে উম্মতে মোহাম্মদী অথচ পাপে তাপে পূর্ণ হয়েও আমরা সমগ্র বিশ্বের রহমত, সমগ্র জাতির শিক্ষক হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিলাদুন্নবী (সঃ) পালনে কৃপনতা করে আমরা জাহান্নামের পথকে সুদৃঢ় করছি।

হে উম্মতে মোহাম্মদীগণ! হে সচেতন নারী-পুরুষ আসুন ! আমরা আল্লাহর হুকুম পালনে তাঁর প্রিয় হাবীব (সঃ)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম প্রেরণ করি এবং জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) সমস্ত শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জে মসজিদ-মাদ্রাসায়, খানকাসহ ঘরে ঘরে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে নবীর আগমনি দিবসকে পালন করি।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ