মিজানুর রহমান মিলন, শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি :
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শহীদ শেখ রাসেলের ৫৯তম জন্মদিন আজ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর ঢাকায় ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে জন্ম গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর প্রিয় লেখক খ্যাতিমান দার্শনিক ও নোবেল বিজয়ী ব্যক্তিত্ব বার্ট্রান্ড রাসেলের নামানুসারে পরিবারের নতুন সদস্যের নাম রাখেন ‘রাসেল’।শৈশব থেকেই দুরন্ত প্রাণবন্ত রাসেল ছিলেন পরিবারের সবার অতি আদরের। ১১ বছরের শিশু রাসেল প্রতিদিনের মতো সেদিনও ঘুমিয়ে ছিল। আকস্মিক গুলির শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। বেগম মুজিব আদরের দুলাল রাসেলকে রক্ষার জন্য কাজের লোকসহ পেছনের দরজা দিয়ে চলে যেতে বলেন। গেট দিয়ে বাইরে যাওয়ার সময় ঘাতকেরা তাকে আটক করে। এ সময় বাড়ির ভেতরে মুহুর্মুহু বুলেটের শব্দ আর আর্তচিত্কার শুনে অবুঝ শিশু রাসেল কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঘাতকদের বলেছিল, ‘আমি মায়ের কাছে যাব।’ কিন্তু মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রাসেলকেও গুলি করে হত্যা করে ইতিহাসের ঘৃণ্যতম এই ঘাতকেরা।শিশু রাসেলের জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে বাবাকে ছাড়াই। কারণ তার বাবা রাজনৈতিক বন্দী হয়ে কারাগারে ছিলেন দীর্ঘদিন। বাবাকে দেখতে না পেয়ে মা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে আব্বা বলে সম্বোধন করতেন রাসেল। এই চাপা কষ্ট যেমন অনুভব করতেন ছোট্ট শিশু রাসেল ঠিক তেমনি তার বাবা বঙ্গবন্ধুও।শেখ রাসেল ছিলেন ভীষণ দুরন্ত। তাঁর দুরন্তপনার সঙ্গী ছিল বাই-সাইকেল। তিনি রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ছাড়াই সাইকেলে করে স্কুলে যেতেন পাড়ার আর দশজন সাধারণ ছেলের মতো। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মাত্র ১১ বছর বয়সে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের অন্যান্য সসদ্যদের সঙ্গে ঘাতক খুনীদের হাতে হত্যার শিকার হন তিনি।এই দিনটি স্বরণীয় করতে ১৮ অক্টোবর গত বছর থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের জন্মদিন ‘শেখ রাসেল দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। শেখ রাসেল জাতীয় দিবসের এবারের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে-‘শেখ রাসেল নির্মলতার প্রতীক, দুরন্ত প্রাণবন্ত নির্ভীক।’এর অংশ হিসাবে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার সুনামধন্য ফুলকোট নবোদয় কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় শেখ রাসেল দিবস পালন উপলক্ষে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিয়ে র‌্যালী ,আলোচনা সভা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব উদ্ভোধনি অনুষ্ঠান দেখার ব্যবস্থা করা হয়। সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন করোনা যোদ্ধা শিক্ষক ফুলকোট নবোদয় কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর অ্যাম্বাসেডর বাংলাদেশ ভোকেশনাল শিক্ষক সমিতি বগুড়া জেরা শাখার সভাপতি ইঞ্জিঃ মোঃ আতিকুর রহমান এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক সহ শিক্ষকবৃন্দ।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ