মিজানুর রহমান মিলন,শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি :
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে রাতের আঁধারে বিভিন্ন ধরণের ট্রাকে অতিরিক্ত মাটি বালু বহন চলছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ধুনট এবং গাবতলী উপজেলা থেকেও অবাধে বিভিন্ন সাইজের ট্রাকে একই ভাবে বালু ঢুকছে শাজাহানপুরে। এতে গ্রামীন সড়ক গুলো ভেঙে একাকার হয়ে গেছে ।
শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের নয়মাইল স্ট্যান্ড থেকে আমরুল ইউনিয়নের মাড়িয়া গ্রাম হয়ে ধুনট উপজেলার বিলচাপড়ী পর্যন্ত সড়ক ও জনপথের ১০কিলোমিটার সদ্য সং স্কার হওয়া সড়কটি ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ধরেছে। সংস্কার কাজ শেষে সড়কটি হস্তান্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।
অবস্থা থেকে প্রতিকার পেতে আমরুল ইউনিয়ন পরিষদের ৭জন সদস্য, ইউনিয়ন আওয়ামীগ এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ এলাকাবাসী স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ গত সোমবার (২৬ডিসেম্বর) বগুড়া জেলা প্রশাসক বরাবর দেয়া হয়েছে। একই ঘটনায় পৃথক ভাবে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছেও একটি অভিযোগ দিয়েছেন তাঁরা।
এত কিছুর পরেও থেমে নেই মাটি বালু ব্যবসায়ীরা। তাই বিকল্প পথে হাঁটার চিন্তা করছেন গ্রামবাসি। মাটি বালু বহন করা বিভিন্ন সাইজের ট্রাক আটকাতে সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরির কথা বললেন বিক্ষুব্ধ অনেকেই।
আমরুল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নজরুল ইসলাম নয়ন জানান, শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের শৈলধুকরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে বাঙালী নদীর গফুরের ঘাট থেকে সরকারি বালু নিয়ে যাচ্ছে একটি মহল। প্রতি রাতে শতাধিক ট্রাকে এই বালু যায়। ধুনট উপজেলার বিলচাপড়ী এলাকায় বাঙালী নদী থেকে অবৈধ ভাবে বিক্রি করা বালু শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের উপর দিয়ে শাজাহানপুর সহ বগুড়ার বিভিন্ন জায়গায় যায়। এলাকার প্রতিটা রাস্তা বেহাল অবস্থায় আছে। নয়মাইল থেকে বিলচাপড়ী পর্যন্ত ১০কিলোমিটির সড়কটির সংস্কার কাজ মাত্র শেষ হয়েছে। সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগকে বুঝিয়ে দেয়ার অপেক্ষায় আছে। অথচ এরই মধ্যে সড়কের অসংখ্য জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও দেবে গেছে। শুধু মাত্র মাটি বালু বহন করায় সড়কটি টিকছে না। তাই প্রতিকার পেতে আমরা জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ দিয়েছি।
অভিযোগে স্বাক্ষর করা ইউনিয়ন পরিষদের অন্য সদস্যরা জানান, ভাঙা সড়ক নিয়ে দূর্ভোগ আমাদেরই পোহাতে হয়। অনেক বছর পর পর সড়ক সংস্কার হয়। আর মাটি বালু বহন করা ট্রাক অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই সড়ক নস্ট করে দেয়।
অভিযোগে স্বাক্ষর করা স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম জানান, মাটি বালু বহন করা ট্রাকের চাকায় সড়ক নস্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। এখনো প্রতিরাতে ৫শতাধিক মাটি বালু ট্রাক চলাচল করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া জেলা প্রশাসক(ডি সি) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, মাটি বালুর বিষয়ে অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধুনট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউ এন ও) সঞ্জয় কুমার মোহন্ত জানান, সেনাবাহিনী ২২শত কোটি টাকার নদী খন প্রোজেক্ট করছে। ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ করছেন। তাঁরা কোথায় কোথায় বালু রাখছেন তা আমাকে অবহিত করা হচ্ছেনা। গত ২৬ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিটিংয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন রেখেছিলাম। কোথায় কোথায় বালু রাখা হয়েছে এবং কোন কোন পয়েন্টের বালু নিলাম করা হয়েছে। কিন্তু সদুত্তর পাইনাই। সেনাবাহিনীর ঠিকাদারের লোকদের সাথে আমার ইতিমধ্যে বাক বিতন্ডাও হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আমাকে সঠিক তথ্য এবং নির্দেশনা দিলে আমি কাজ করবো ।এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউ এন ও) সাইদা খানম জানান, উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মাঠে কাজ করছেন। তিনি ইতিমধ্যে তদন্ত করছেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ