মোঃ সালাউদ্দিন গুইমারা, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি,

পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি ইউনিয়নের মংজাই কার্বারী পাড়া গ্রামে বসবাস করেন, কৃষাণী ক্রাইঞো মারমা, বয়স-৫০
ক্রাইঞো মারমার স্বামী স্বামী-মংহ্লাউ মারমা, বয়স-৬০, পেশায় একজন দিন মজুর এছাড়াও তার ৩টি সন্তান রয়েছে। সন্তানদের মধ্য সকলের বড় ছেলে, থোয়াইঅং মারমা, বয়স-২৫, স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করেছেন, মেঝ ছেলে, সাইথং মারমা, বয়স-২২, স্নাতক (সম্মান) অধ্যায়নরত এবং সকলের ছোট ছেলে, চিংথোয়াই মারমা, বয়স-২১, রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে অধ্যায়ন করছে এই নিয়ে ক্রাইঞো মারমার সংসার।
ক্রাইঞো মারমার কোন জমি নেই তার বসত বাড়ি ০.৪০ শতাংশ উচু টিলা ভূমির উপর নির্মিত। সেখানেই কিছু ফল/সবজি চাষ করে পরিবারের আংশিক খাদ্য চাহিদা মেটাতে নিয়মিত পরিশ্রম করেন তিনি।
কিন্তু পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করার জন্য বাড়তি কোন আয়ের ব্যবস্থা নেই তার দিন মজুর স্বামীর আয়ের উপর নির্ভর করেই তাকে সংসার ও ছেলেদের পড়ালেখার খরচ চালাতে হয়।
ক্রাইঞো মারমা তার পরিবারের খরচ নির্বাহের জন্য তাদের নামে সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত রেশন কার্ড অন্যের নিকট বন্ধক দিয়ে ২,১০,০০০/-(দুই লক্ষ দশ হাজার) টাকা গ্রহণ করেছেন যা তার পরিবারে ও সন্তানদের লেখা পড়ায় ব্যয় করেছেন। এছাড়াও গ্রামীণ ব্যাংক হতে ২০,০০০/-(বিশ হাজার) ও সমাজসেবা অধিদপ্তর হতে ১০,০০০/-(দশ হাজার) টাকা ঋণ গ্রহণ করেছেন।
পরিবারের আয় বৃদ্ধির লক্ষে ক্রাইঞো মারমা ২০২০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ, এসআইডি-সিএইচটি, ইউএনডিপি কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রকল্পের আওতায় মৌ-চাষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর তিনি জেলা পরিষদের মাধ্যমে ২টি মৌ বক্স ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ গ্রহণ করেন।
অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগানোর জন্য প্রথমে তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে মৌ কলোনী খুঁজতে শুরু করেন এবং প্রাথমিক ভাবে ২টি মৌ কলোনী সংগ্রহ করে সফল ভাবে বক্সে প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হন। সেখান থেকেই তার আগ্রহ বৃদ্ধি হতে থাকে। এর পর প্রতিনিয়ত মৌ কলোনী সংগ্রহ করে এবং যখনই একটি বক্সে নতুন রাণীর সৃষ্টি হয় তখন তিনি রাণী বিভাজন করে নতুন নতুন মৌ বক্সে প্রতিস্থাপন করতে থাকেন।
বর্তমানে তার বাড়ির আঙ্গিনায় ২৪ টি মৌ কলোনী বক্সে স্থাপন করা রয়েছে।
করোনাকালীন সময়ে যখন পরিবারের টানাপোড়েন সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল এবং তার স্বামীর কোন উপার্জন ছিল না তখন তিনি মধু বিক্রয় করে আয় করেছেন ২৫,০০০-২৭,০০০/-টাকা এবং তা দিয়েই পরিবারের খাদ্যের সংকট মোকাবেলা করেছেন এবং ঋণের নিয়মিত কিস্তি প্রতি সপ্তাহে ৬৫০/-টাকা হারে পরিশোধ করেছেন।
বর্তমানে তিনি পিঁপড়া ও অন্যান্য ক্ষতিকর প্রাণীর হাত থেকে মৌ মাছিকে রক্ষার জন্য নিয়মিত পরিচর্যা ও রক্ষনাবেক্ষণ করেন।
তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মৌ বক্স আরও বৃদ্ধি করা এবং মৌ-চাষের মাধ্যমে পারিবারের আয় বৃদ্ধি করা ।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ