গত ৮ মাস ধরে তাঁকেও আর দেখা যাচ্ছে না। অগ্রিম হিসেবে যে টাকা দিয়েছেন, তার আদায় নিয়ে ভাড়াটিয়া উদ্বিগ্ন।

জানা গেছে, কোমো অ্যাপারেলসের কাছে সুদ-আসলে মার্কেন্টাইল ব্যাংক পাবে ৮ কোটি ৫০ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আর ক্লাসিক সাপ্লাইজের কাছে ব্যাংকটির পাওনা ১ কোটি ৩৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। বাকি ৩০০ কোটি টাকার বেশি পাবে সোনালী ব্যাংক। মিরপুর-১২ নম্বরের যে ৯ তলা ভবন ঘিরে এ ঋণ সৃষ্টি হয়েছে তা এখন সোনালী ব্যাংকের দখলে। ভবনটি বিক্রির জন্য বিভিন্ন সময়ে নিলাম ডেকেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা মেলেনি।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের আইন বিষয়ক বিভাগে যোগাযোগ করলে সেখান থেকে রমনা করপোরেট শাখায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। গত ১ সেপ্টেম্বর ব্যাংকটির রমনা করপোরেট শাখায় গেলে এ নিয়ে কেউ মুখ খুলতে চাননি। শাখা ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে টেলিফোন ও এসএমএস করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মার্কেন্টাইল ব্যাংকের প্রধান শাখার একজন কর্মকর্তা বলেন, অর্থঋণ আদালতে আগে থেকে এ বিষয়ে মামলা চলমান রয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটি এবং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকের বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। ব্যাংকের পক্ষ থেকে সম্পত্তি নিলাম করে আংশিক অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। এসব প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করতে রায়হান শরীফ হয়তো দেউলিয়া আদালতে মামলা করেছেন। মামলার রায় তাঁদের পক্ষে না গেলেও অন্তত বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা যাবে।
দেউলিয়া বিষয়ক আইনে সাধারণভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে কারও ঋণ পরিশোধের মতো সক্ষমতা না থাকলে দেউলিয়া ঘোষণার আবেদনের সুযোগ রয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণগ্রহীতাকে দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন করলেও গ্রাহক নিজেই নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছেন- এমন ঘটনা সাধারণত দেখা যায় না। এ ছাড়া দেউলিয়া ঘোষণার আবেদনের নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তি বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিকে প্রকাশের বিধান রয়েছে। তবে কেমো অ্যাপরেলস ও ক্লাসিক সাপ্লাইজের নোটিশ এমন দুটি দৈনিক পত্রিকায় ছাপা হয়েছে যার নামই অনেকে জানেন না। ঢাকার ফকিরাপুল থেকে প্রকাশিত এ দুটি পত্রিকার প্রচার নেই বললেই চলে। এ ছাড়া নিয়মিত প্রকাশিত হয় না। দেউলিয়া আদালতের অতিরিক্ত জেলা জজ সৈয়দা কানিজ কামরুন নাহারের পক্ষে সেরেস্তাদার শাহজাহান বেপারী পত্রিকার নাম ঠিক করে দেন। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে দেউলিয়া আদালতে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী রেদওয়ান এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ