মোঃ নাসির উদ্দিন,স্টাফ রিপোর্টারঃ
নয় কুড়ি কান্দার ছয় কুড়ির বিল নামে পরিচিত সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর। ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে প্রায় ৩০টি ঝর্ণা এসে সরাসরি মিশেছে হাওরের পানিতে। সারিসারি হিজল-করচ, পাখিদের কলকাকলিতে সদা মুখরিত টাঙ্গুয়ার হাওর। জীববৈচিত্র্য ও সৌন্দর্যের কারণে টাঙ্গুয়ার হাওরের সুনাম শুধু দেশেই নয় বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
প্রত্যেক বছর হাজার হাজার পর্যটক টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণে আসেন। এই পর্যটনের ওপর বিভিন্নভাবে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত তাহিরপুরের মানুষের জীবন-জীবিকা। স্থানীয় অন্তত কয়েকশ নৌকার মাঝির সংসার চলে পর্যটকদের নিয়ে। এছাড়াও কেউ হাওরে চা বিক্রি করে, কেউবা লাইফ জ্যাকেট ভাড়া দিয়ে দু বেলার খাবার যোগায়। পর্যটকদের রাতে থাকা কিংবা খাবার ব্যবস্থা করেও অর্থ উপার্জন করেন স্থানীয়রা। তবে স্থানীয়দের এসব উপার্জনের উৎসে ভাগ বসিয়েছে বহিরাগত ট্যুর অপারেটরদের বিলাসবহুল অর্ধশতাধিক হাউজবোট।
থাকা, খাওয়াসহ অত্যাধুনিক সকল সুবিধা আছে হাউজবোটে। সুসজ্জিত লবি, আলাদা ক্যাবিন রুম, জেনারেটর, সাওয়ার, হাই-কমোডসহ রয়েছে সুবিশাল ছাদ। অভিজাত পুরো একটি হোটেল এখন দাপটের সাথে ঘুরে বেড়ায় হাওরের এ প্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্ত। সুবিধা বেশি হওয়ায় পর্যটকরা ভ্রমণের জন্য এখন এসব হাউজবোটই বেছে নিচ্ছেন।
অনলাইন বুকিংয়ের মাধ্যমে ঢাকা থেকেই ট্যুর অপারেটররা প্যাকেজের মাধ্যমে ট্যুর পরিচালনা করেন। যে কারণে বেকার হচ্ছেন স্থানীয় নৌকার মাঝি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রিক পর্যটন ট্যুর অপারেটরদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় আয়ের অর্থগুলোও চলে যাচ্ছে সুনামগঞ্জের বাইরে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সুনামগঞ্জের অর্থনীতি লাভবান হচ্ছে বহিরাগত পর্যটন ব্যবসায়ী। বিশাল এই হাউজবোটের ইঞ্জিনের বিকট শব্দে পরিবেশ আর বড় বড় ঢেউয়ে হাওরের গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ থাকলেও দাপটের সাথেই চলছে নৌযানগুলো। বিত্তবান ও প্রভাবশালী হওয়ায় হাউজবোট মালিকদের সামনে দাঁড়াতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
টাংগুয়ার হাওরের মাঝি আয়াতুল বলেন, আমরা টাংগুয়ার পাড়ের মানুষ খুবই দরিদ্র। এলাকার মানুষেরা এবং ছোট নৌকার যারা খুব কষ্টে আছি। রুজি-রুজগার করতে পারছি না। ওদের দাপটে আমাদের ছোট নৌকাগুলো পারে ভিড়াতেই পারি না। তাদের অমুক আছে, তমুক আছে বলে ভয় দেখায়। তাদের কারণে আমাদের এলাকার নৌকাগুলো বাড়ির ঘাটে বাঁধা।
জালাল উদ্দিন বলেন, বড় হাউজবোটের কারণে আমাদের ছোট নৌকা ভাসাতে পারি না, ঘাটে বাঁধা থাকে। আমরা গরিব মানুষ কীভাবে চলব।
আশিক মিয়া বলেন, ৪ সিলিন্ডার, ৬ সিলিন্ডার ইঞ্জিনের হাউজবোটের কারণে হাওরের বাধের ক্ষতি হচ্ছে, মানুষের ক্ষতি হচ্ছে। তাদের জন্য ছোট ছোট নৌকাগুলো ট্রিপ পায় না।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা বললেন, আমি নতুন এসেছি। এ বিষয়ে পুরোপুরি জেনে ব্যবস্থা নিতে হবে।
জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এ বছর টাঙ্গুয়ার হাওরে ৪০টির মতো হাউজবোট এসেছে। কিছুটা হলেও এর জন্য পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগামী বছর থেকে অবাধ চলাফেরা করতে পারবে না। হাউজবোট সহ অন্যান্য নৌকা চলার নির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করে দেওয়া হবে। ফলে টাঙ্গুয়ার হাওরের ভিতরে ঢুকতে হলে স্থানীয় ছোট ছোট হাতে বাওয়া নৌকা নিয়ে ঢুকতে হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ