মোঃ রেজওয়ান আলী বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি-দিনাজপুর বিরামপুর ইউনিয়নে ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদফতরের অধীনে অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে অনেক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
আজ (১৩ই ডিসেম্বর ২০২২) দিনাজপুর বিরামপুর উপজেলাধীন ৩নং খানপুর ইউনিয়নে অতি দরিদ্র ৪০ দিনের কর্মসূচি মাটিকাটা কাজের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। উক্ত বিষয়ে ঘটনা সরজমিনে জানা যায়, সারা দেশের ন্যায় প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায় অতি দরিদ্র কর্মসংস্থান ৪০ দিনের কর্মসূচির প্রকল্প সরকার প্রদান করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিরামপুর উপজেলার ৩নং খানপুর ইউনিয়ন পর্যায়ে উক্ত পরিকল্পটি চালু হয়েছে। উক্ত প্রকল্পের কার্যক্রমের মূল বিষয়বস্তু ছিল অবহেলিত কাঁচা রাস্তা গুলির উপরে মাটিকাটা। উক্ত প্রকল্পে তিন নাম্বার খানপুর ইউনিয়ন পর্যায় ৫টি দল রয়েছে। প্রায় দলে ৭৪-৫৪ জন পুরুষ ও মহিলা সমন্বয়ে দল রয়েছে।
এরি ধারাবাহিকতায় উক্ত ইউনিয়ন পর্যায়ে পাঁচটি দল রয়েছে। এক একটি দলে দলনেতা ও সরকারি দলনেতা রয়েছে।
উক্ত প্রকল্পের ইউনিয়ন পর্যায়ের ৫-৬ ওয়ার্ডে কর্মসূচি পালনের একটি দল রয়েছে যে দলটির দলনেতা ছিল সায়েম নামে এক ভুক্তভোগী। উক্ত কাজে দেখা যায় তার দলে ৭৪জন সদস্য ও সদস্যা থাকলেও বাস্তবে রয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ জন। বাকি সদস্যের কথা দলনেতাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান একেকজনের একেক সমস্যার কারণে তারা ছুটি গ্রহণ করেছে এবং অনুপস্থিত রয়েছে।
অতিদরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় (২০২০-২১) অর্থ বছরে উপজেলার ৪০টি প্রকল্পে ইউনিয়নে ৫টি প্রকল্পের মধ্যে ৪০ দিনের মাটি কাটার কর্মসূচির তালিকা তৈরি করে ইউনিয়ন পরিষদ। কিন্তু সঠিকভাবে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান অবহেলিত অবস্থায় রূপ নিয়েছে।
অনুরূপভাবে আরেকটি দল পর্যবেক্ষণ করা হয়,উক্ত ইউনিয়ন পর্যায়ের চার নম্বর ওয়ার্ডে কর্মরত দল নেতা মাহবুব। তার দলে সদস্য ও সদস্যা সংখ্যা ছিল ৫৪জন অনুপস্থিত রয়েছে ১০জন। অনুপস্থিত থাকার কারণ জিজ্ঞাসা করলে দলনেতা মাহবুব বলেন বিভিন্ন সমস্যার কারণে তারা দলে অনুপস্থিত থাকেন।

উক্ত বিষয়ে চার নাম্বার ওয়ার্ড সদস্য সোহেল রানার নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে জানান,বরাবরের মতো উক্ত দলে প্রায় অনেক সদস্য ও সদস্যা গন অনুপস্থিত থাকেন। এ বিষয়ে আমি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান চিত্তরঞ্জন পাহান কে বারবার বলার পরেও কোন কথা শোনেননি এবং কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই বলে জানান। তিনি আরো জানান,যে সদস্য ও সদস্যা গুলো নিয়মিত কাজ করেন না তাদেরকে বাদ দিয়ে উক্তস্থলে নতুন সদস্য নিয়োগের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান।
উক্ত দলের কাজের সময় আরো জানা যায় যে প্রতিদিনের মত বৈকাল চারটার দিকে কাজের শেষ সময় উপস্থিত নাম রুটিং এর কাজটি সম্পূর্ণ করেন বলে দলনেতা গণ জানান। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন কাজের শুরুতেই উপস্থিতির নাম রুটিং এর কাজটি সম্পূর্ণর কথা থাকলেও দলনেতা গন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে কাজের শেষে নাম রুটিং এর কাজটি সম্পূর্ণ করেন বলে জানান।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনসাধারণের নিকট জানতে চাইলে তারা জানান,এ ছাড়া নিয়মিত হাজিরা না দিয়েও টাকা তুলছে একাধিক শ্রমিক। অতি দরিদ্র কর্মসূচির ৪০ দিনের কাজে প্রায় ভুয়া তালিকার মাধ্যমে নিয়মিত কাজের বিল তুলছেন বলেও অভিযোগ করেন।
উক্ত কর্মসূচির কাজে প্রতিটি দলের মধ্যে নাম তালিকা অনুযায়ী কোন সদস্য সঠিকভাবে কাজ না করেও তারা বিল তুলছেন বলে অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ কাওসার আলীর নিকট জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে জানান,যে শ্রমিক গুলো নিয়মিতভাবে কাজ করছে না অনুপস্থিত রয়েছে সেই সেইসব সদস্যদের জব কার্ড গুলো জমা নেওয়া হচ্ছে,তারা অনুপস্থিত থাকলে কোন বিল পাবেনা।
বিশেষ করে অনুপস্থিত শ্রমিকদের জবকার্ড গুলো জমা নেওয়া হচ্ছে কোনমতেই তারা কোন বিল পাবে না। তিনি আরো জানান যে কর্মচারী পরপর তিন দিন কাজে অনুপস্থিত থাকবে নিয়ম মাফিক ভাবে তার জব কার্ডটি বাতিল হয়ে যাবে।এবিষয়ে ৩নং খানপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান চিত্তরঞ্জন পাহান কে মুঠোফোন যোগাযোগ করার অনেক চেষ্টা করার পরও তিনি তার মুঠোফোন রিসিভ না করে কেটে দেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগী গণের নিকট থেকে জানা যায় অনুপস্থিত সকল শ্রমিকদের কে বাদ দিয়ে নিয়মিত অনেক শ্রমিকই রয়েছে। স্থানীয় মেম্বার চেয়ারম্যান মহিলা মেম্বারগণ আমাদের নাম তালিকায় রাখার কোনরূপ তোয়াক্কা করেন না। উক্ত বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকার জনসাধারণ।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ