এম,ডি রেজওয়ান আলী, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:- দিনাজপুর বিরামপুরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ছেয়ে গেছে আমের মুকুল। পৌষেই বিরামপুর গাছে গাছে আমের মুকুল ফুটছে। গোপালভোগ,ক্ষীরশাপাত, লক্ষণভোগসহ বেশকিছু গুটি আমের গাছে মুকুল আসছে। মুকুল পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি ও বাগান মালিকরা। আমচাষীরা পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষায় মুকুলে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ঔষধের সাহায্য গ্রহণ করছেন। আজ শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার দিওড়,খানপুর,মুকুন্দপুর,জোতবানী, বিনাঈল,পলিপ্রয়োগপুর,কাটলা ইউনিয়ন ও বিরামপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্যের চিত্র ফুটে ওঠেছে। বিরামপুর উপজেলার দিওড় ইউনিয়নের আমচাষি রফিক জানান,কয়েকদিন আগে থেকে লক্ষণভোগসহ কয়েক জাতের গুটি আম গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। তাই কীটনাশক দিয়ে স্প্রে করছি। যেন মুকুলগুলো নষ্ট না হয়। বাগানে লক্ষণভোগ,গোপালভোগ,ফজলি,আশ্বিনা,বারি-৪,ল্যাংড়াসহ বেশ কয়েক জাতের আম গাছ রয়েছে। গত বছর থেকে এবার আম গাছের অবস্থা ভালো। ভালো ফলনের আশা করছি।
কাটলা ইউনিয়নের আমচাষি আরিফুল ইসলাম বলেন,গাছে মুকুল দেখে তিন দিন ধরে গাছে স্প্রে করছি। তবে সব গাছে মুকুল আসেনি। কিছু গুটি জাতের আম গাছে মুকুল এসেছে। বাগানে সেচও দিতে হয় সময় মত।
জোতবানী ইউনিয়ন এলাকার একটি আম বাগানে সেচ দিচ্ছেন চাষি মোজাম্মেল হক বলেন,বহুদিন ধরে এ এলাকা বৃষ্টি হয়নি। হিমেল বাতাস বইছে। আম গাছের গোঁড়া শুকিয়ে গেছে। হালকা বৃষ্টি হয়েছে তাই সেচ দিতে হচ্ছে যেন গাছের গোড়া শুকিয়ে না যায়। এখানে আমার অনেক ফজলি আমের গাছ আছে। মুকুল এখনো তেমন আসেনি। তবে আশা করছি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মুকুলে ছেয়ে যাওয়ার কথা। বিনাঈল ইউনিয়নে এক আম চাষী জানান,উপজেলার গুটি গাছগুলোতে আগাম মুকুল আসতে শুরু করেছে। তবে জাত ভেদে আম গাছগুলোতে এখনো পূর্ণ ভাবে মুকুল আসেনি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আশা করা যাচ্ছে আগামী ১/২ সপ্তাহের মধ্যে পুরোপুরি মুকুল আসবে। তিনি আরো বলেন,গত দুই দিনের এই হালকা বৃষ্টি আম চাষিদের জন্য অত্যন্ত জরুরী ছিল। তা না হলে বাগানে খরচ করে ছেচ দেওয়া লাগতো,বৃষ্টির পর এ মুকুল দেখে চাষিরা বাগান পরিচর্যা শুরু করেছেন। আশা করছি উপজেলার সব বাগানে মুকুল আসবে।
বিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানা যায়,এবছর উপজেলায় আম চাষ হয়েছে ১১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমি।উপজেলার আম গাছ গুলোতে ৩৫/৪০% মুকুল এসেছে। এ সময়ে সাধারণত ৬০/৭০% এসে যায় দীর্ঘ সময় শীতের কারণে এবছর একটু কম মুকুল এসেছে। তবে আশা করা যাচ্ছে আগামী ১/২ সপ্তাহের মধ্যে আরো কিছুটা মুকুল আসবে। গত দুই দিন আগে হালকা বৃষ্টি হওয়ায় মুকুলের পাশাপাশি জালিপাত গজানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তাই চাষীদের আমের মুকুলে পোকার আক্রমণ থেকে মুকুল ও জালিপাত বাঁচাতে একটি কীটনাশক দিয়ে স্প্রের পরামর্শ দেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ