সোহেল রানা রাজশাহীজেলা প্রতিনিধি।

রাজশাহীর বাঘায় স্বামী ও দুই বছরের বাচ্চা রেখে নিরুপায় হয়ে বিষ পানের ঘটনা ঘটিয়েছে এক গৃহবধূ। রবিবার (২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার মনিগ্রাম তুলশিপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, বেশ কিছুদিন যাবত বাঘা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহানুর রহমান সোহাগ ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল গৃহবধূকে। বিষয় টা গৃহবধূর স্বামী জানতে পেলে সমস্যা শুরু হয় তাদের দাম্পত্য জীবনে। গৃহবধূ সোহাগ কে সমস্যার কথা জানালে সে পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে, এমনকি গৃহবধূকে সে চিনেই না বলে দাবী করে। নিরুপায় হয়ে নিজের এবং পরিবারের ইজ্জৎ বাঁচাতে বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে গৃহবধূ। এখন সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছ বলে জানান স্থানীয়রা।

এদিকে গৃহবধূর দাবী এ ঘটনার জন্য দায়ী বাঘা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহানুর রহমান সোহাগ। সোহানুর রহমান সোহাগ মনিগ্রাম তুলশিপুর এলাকার জিল্লুর রহমানের ছেলে। জিল্লুর রহমান মনিগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।

গৃহবধূ জানান, সোহাগ তার মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে কল দিত। প্রতিবেশী দেবর হিসেবেই কথা হতো সোহাগের সাথে, হঠাৎ সোহাগ তাকে দেখা করতে বলে। দেখা করতে গেলে জোর করে কিছু ছবি ও ভিডিও করে সে। পরে সেই ছবি ও ভিডিও স্বামী কে দেখানোর ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করে। আমি ভয়ে স্বামী কে কিছুই বলতে পারিনি। পরে আমার স্বামী জানতে পারলে আমার দুই বছরের বাচ্চাকে রেখে আমাকে তারিয়ে দিতে চাই। আমি বিষয় টা সোহাগ কে বললে সে আগের সকল ঘটনা অস্বীকার করে এবং আমাকে সে চিনে না বলে। স্বামী, পরিবার ও সোহাগ কেউ আমাকে গ্রহণ করবে না এই সব ভেবে নিজের এবং পরিবারের সম্মানের কথা ভেবে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু সেটাও করতে পারলাম না, এখন আমি যার জন্য এই অবস্থায় তার বিচার চাই।

বিষয়টি জানতে একাধিক বার সোহাগের ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল দিলে ফোনটি বন্ধ পাই প্রতিবেদক।

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন সাজু জানান, বিষ পানের বিষয়টি তিনি অবগত। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলেও জানান তিনি।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ