উজ্জ্বল কুমার সরকারঃ
সুরকার, সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খানের জন্মদিনে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। বাংলাদেশের কিংবদন্তি সুরকার ও সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিবপুর গ্রামের এক সঙ্গীত সমৃদ্ধশালী পরিবারে ৩রা মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা উপমহাদেশের বিখ্যাত সুর সাধক ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ। সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ তার জ্যাঠা।
শেখ সাদী খান প্রথম সঙ্গীতের তালিম নেন বাবা ওস্তাদ আয়েত আলী খানের কাছ থেকে। তার বাবার কাছ থেকেই প্রথমত তবলা ও তারপর বেহালা শেখেন। তার শৈশব কাটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লায়। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হয়ে পড়াশুনার শুরু করেন । পরে ঢাকা এসে ধানমন্ডি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনি মেট্রিক পাশ করেন। এরপর আইমিউজ ও বিমিউজ সম্পন্ন করেন ঢাকা সঙ্গীত মহাবিদ্যালয় থেকে। ১৯৬৩ সালে মেজভাই সরোদ বাদক ওস্তাদ বাহাদুর খানের সাথে ভারতে যান বেহালায় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শেখার জন্য। তিন বছর তার অধীনে তালিম নিয়ে ১৯৬৫ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ১৯৬৫ সালে রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্রে একজন বেহালা বাদক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৮ সালে বেহালা বাদক হিসেবে তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে তিনি যোগ দেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্ত হন স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের সঙ্গে। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে বাংলাদেশ বেতারে তিনি একজন সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। ২০০৭ সালের মার্চে প্রধান সঙ্গীত প্রযোজক হিসেবে বাংলাদেশ বেতার থেকে অবসর নেন।
শেখ সাদী খান সত্তরের দশকে সঙ্গীত পরিচালক খন্দকার নুরুল আলমের সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন। ১৯৭৭ সালে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে সারাদেশে খ্যাতি লাভ করেন। প্রথম চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করার সুযোগ পান ১৯৮০ সালে আবদুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত” এখনই সময় ” চলচ্চিত্রে। এ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে বাচসাস পুরস্কার পান। ১৯৮৫ সালে তার সঙ্গীত পরিচালনায় ” সুখের সন্ধানে” চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী মান্না দে। এছাড়া তিনি আশা ভোঁসলে, সাবিনা ইয়াসমিন, এন্ড্রু কিশোর, রুনা লায়লা সহ দেশী বিদেশী অনেক শিল্পীর সাথে জীবনে কাজ করেছেন। পুরস্কার ও সম্মাননা সম্পাদনা: শেখ সাদী খান দুই বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও তিনবার বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন। এ ছাড়াও উনার ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য পুরস্কার।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ