রাজধানীর শ্যামপুরের ধোলাইপাড়ে স্কুলছাত্র নয়ন হত্যাকাণ্ডের রহস্য কিছুটা উদঘাটন করতে পেরেছে পুলিশ। বন্ধুদের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ক্ষোভের বসত তাকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে ধারণা করছে পুলিশ। মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের বাবা কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে তিন জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা করেছেন। এরইমধ্যে মামলায় প্রধান আসামি সাব্বির ও হোসেন নামে দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে এ বিষয়ে কথা হয় শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজুল আলমের সঙ্গে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে বন্ধুদের সঙ্গে কোনো কারণে মনোমালিন্য হয় নয়নের। এ কারণে পরিকল্পনা করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। কি নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়েছে সেটা বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ওসি বলেন, গ্রেফতার সাব্বির ও হোসেন নিহত নয়নের বন্ধু ছিল। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নয়নকে ধোলাইপাড় বস্তি ভিটা বালুর মাঠে নিয়ে যায় হোসেন। সেখানে সাব্বির নয়নের বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাব্বির-হোসেন ছাড়াও আরও একজন জড়িত আছে। তাকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা নেই।
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, নিহতের পরিবারের কাছে জানা গেছে- নয়ন পোস্তগোলা এলাকায় একটি এনজিওর রাত্রিকালীন স্কুলে পড়াশোনা করত। পাশাপাশি একটি ফ্রিজের দোকানে চাকরি করতো। সেটা ছেড়ে দিয়ে সেপ্টেম্বরের ১ তারিখে ডেমরায় একটি প্রিন্টিং কারখানায় চাকরি নেয়।
প্রসঙ্গত, রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ধোলাইপাড় বস্তি ভিটা বালুর মাঠে নয়নকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নয়ন মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার ঝামা গ্রামের কামরুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে ধোলাইপাড় মুন্সিবাড়ি এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকতো সে।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ