সুমন,মোংলা(বাগেরহাট)সংবাদদাতা:
বাংলাদেশ আর বঙ্গবন্ধু অবিচ্ছেদ্য। বাংলাদেশকে জানতে হলে বঙ্গবন্ধুকেও জানতে হবে। কীভাবে একজন নেতা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হয় তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ বঙ্গবন্ধু। তার দীর্ঘ সংগ্রাম ছিল বহু বিচিত্র। বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন কিন্তু আপস করেননি। সেই যে রাজনৈতিক জীবন, যে লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতি করেছেন সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে কত ষড়যন্ত্রের ঘেরাটোপে পার হতে হয়! তিনি তা জেনেশুনেই নিজেকে উতরেছেন। আর উতরেছেন বলেই দীর্ঘসময় জেল-জুলুম-অত্যাচার সবকিছু মাথায় তুলে নিয়েছিলেন। একটাই লক্ষ্য—দেশের সাধারণ মানুষের মুক্তি। মানুষ যেন দুমুঠো ভাত খেতে পারে; শান্তিতে, স্বস্তিতে ঘুমাতে পারে—এ ছিল তার সার্বক্ষণিক চিন্তা। বঙ্গবন্ধু শুধু একটি নাম নয়, একটি ইতিহাস। যার নাম বাংলাদেশ।
রোববার (১৭ মার্চ) সকালে মোংলা পোর্ট পৌরসভার উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ১০৪ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে পৌর মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোংলা পোর্ট পৌরসভার মেয়র ও পৌর আ’লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আ. রহমান এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, যে মানুষটি সারাটা জীবন কাটিয়েছেন দেশকে পরাধীনতার হাত থেকে মুক্ত করার জন্য, একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ দেখবার জন্য, স্বাধীনতার চার বছরের মাথায় সেই মানুষটিকে হত্যা করল বিপথগামী কিছু সেনা কর্মকর্তা। বঙ্গবন্ধু কোনো দলীয় নেতা ছিলেন না। দলমতনির্বিশেষে তিনি সবার জাতীয় নেতা। তিনি একটি দলের প্রধান হলেও সব দল নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়েছিলেন দেশ মুক্ত করার জন্য। তিনি জানতেন, ঐক্য ছাড়া দেশ স্বাধীন করা যাবে না। সব দলের মানুষও তাকে শ্রদ্ধার আসনে অলংকৃত করেছিল। তাই তিনি একটি দলের হলেও সব দলের নেতা। তার যে দিকটা বড় ছিল, জাতীয় ঐক্য। দলের প্রধান হিসেবে নয়, দেশের জনগণের নেতা হিসেবে বিভিন্ন দলের নেতারা তাকে মেনেছেন, শ্রদ্ধা করেছেন।
এরআগে পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আ. রহমান’র নেতৃত্বে পৌরসভা কার্যালয় থেকে বর্ণাঢ্য এক র‌্যালি বের হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌর শিশু পার্ক চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পৌর পরিষদ পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। পরে পৌর কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম হোসেন সহ পৌর কাউন্সিলর ও পৌর কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ