এমডি রেজওয়ান আলী বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:- দিনাজপুর বিরামপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছারিতা অভিযোগ উঠেছে। উক্ত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বিরামপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর (মামুদপুর) মহল্লাহ সংলগ্ন অবহিত। স্কুল প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা।
স্কুলের নিয়মানুবর্তিতা উপেক্ষা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে থাকায় স্হানীয়দের অভিযোগে জানা যায়। স্হানীয়রা তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছারিতার অভিযোগ করে জানান,মোহাম্মদপুর (মামুদপুর) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা শিক্ষা ব্যবস্হা আইন উপেক্ষা করে নিজ মন মতো স্কুল পরিচালনা করে থাকেন। তিনি গত ৪ মার্চ দুপুরে বেলা ৩-৩৭ মিনিট সময়ে স্কুলের জাতীয় পতাকা নামিয়ে রেখে স্কুল বন্ধ করে দেয়। এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার এটিও সিরাজ উদ্দিনকে মুঠোফোনের জানালে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। উক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সহকারী শিক্ষিকা শামিমা আকতার। স্কুল চলমান সময়ে নিকটে বাড়ি ও তার স্বামী এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। উক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেষা প্রধান শিক্ষকের জমির উপরে একটি প্রতিবন্ধী স্কুল স্থাপিত হয়েছে। উক্ত স্কুলে ৪ মার্চ পর্যবেক্ষণে দেখা যায় প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা স্কুল সংলগ্ন প্রতিবন্ধী স্কুলে সময় দিচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষ পক্ষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময় দেওয়ার কথা। তারা আরো জানান,একই স্কুলে স্বামী ও স্ত্রী উভয়ে শিক্ষকতা করার কারণে অন্যান্য শিক্ষকদের কোন কথা কর্ণপাত না করেই ২টি স্কুল একই সাথে পরিচালনা করে থাকেন। এমনকি পার্শ্ববর্তী প্রতিবন্ধী স্কুল পরিচালনার জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় এর অফিস ভবন থেকে দেয়াল কেটে একটি দরজা তৈরি করেন। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৪ মার্চ দুপুরে বেশ কিছু গনমাধ্যমকর্মী সহ সরেজমিনে বিদ্যালয়ে জানা যায়,বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা পাশের বিরামপুর অটিষ্টিক এন্ড প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের হোয়াইট বোর্ডে একজন শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের সহিত আলোচনা করছেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকে সংলগ্ন অটিষ্টিক এন্ড প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান,
আমি এই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং আমার ছোট ভাই প্রধান শিক্ষক। অথচ ছোট ভাই মোশারফ ইটালী প্রবাসী সে ২-৩ মাসের জন্য দেশে এসেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্কুল প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফার ছোট ভাই প্রধান শিক্ষক হিসাবে রয়েছেন। কিন্তু সে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান সে দিনাজপুরে গিয়েছে পরে জানাযায় সে বিদ্যালয়ের পাশেই নিজ বাড়িতে রয়েছেন।
বিরামপুর মোহাম্মদপুর ( মামুদপুর) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০০৯ সালে স্থাপিত হয় পরবর্তীতে ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হয়। স্থানীয়রা জানান,সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা একি সাথে দুটি বিদ্যালয়ের দেখাশোনা করেন এ কারনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের ভেতর দিয়ে আলাদা দরজা বানিয়েছেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফার স্ত্রী একি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হওয়াই বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে প্রায় বাসায় থাকেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিদ্যালয়ের টয়লেট অপরিষ্কার করে রাখার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ প্বার্শের অটিষ্টিক এন্ড প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের টয়লেট ব্যবহার করেন আর শিক্ষার্থীরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিদ্যালয়ের টয়লেটটিই ব্যবহার করে যাচ্ছে। এছাড়াও প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা মোহাম্মদপুর (মামুদপুর) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেঞ্চগুলো অটিষ্টিক এন্ড প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে রেখেছেন যার কারণে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা মেঝেতে বসে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। মোহাম্মদপুর (মামুদপুর) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফার স্বেচ্ছারিতায় অতিষ্ঠ ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকগন। ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকগন জানান যে গত ২০২৩ সালের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে পরীক্ষার ফি গ্রহণ করা নিষেধ থাকলেও তিনি গ্রহণ করেন এবিষয়ে বিরামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে পরবর্তীতে অনেক শিক্ষার্থীকে টাকা ফেরত দেন। প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মনিটরিং বোর্ড রাখার নিয়ম থাকলেও তিনি রাখেননি,প্রধান শিক্ষক হয়ে তার এরকম স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে বিরামপুর উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আল সিরাজের সাথে কথা বললে তিনি জানান টিফিন পিরিয়ডে অটিষ্টিক এন্ড প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে যদি তিনি সময় দিয়ে থাকেন এটি ভালো বিষয় এছাড়াও অন্যান্য বিষয়গুলোর ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফাকে মুঠোফোনে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আল সিরাজ কথা বলায় প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা সাংবাদিকদের সাইজ করবেন বলে হুমকি প্রদান করেন। সাংবাদিকগন প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফার এরকম আচরণের ব্যাপারে বিরামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিনারা বেগমকে বললে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন।সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের এরকম স্বেচ্ছাচারিতার ব্যাপারে মৌখিক অভিযোগ দিয়েও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যাবস্থা গ্রহন না করায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন এলাকার সচেতন মহল।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ