ঢাকা জেলার আশুলিয়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর রাকিবুল ইসলাম @ উজ্জল (২৪) নামের এক পোশাক শ্রমিককে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ জুয়েল রানা (২৭) সহ ০৩ জনকে জিএমপি, গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকা হতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সবসময় বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র‌্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে এ পর্যন্ত হত্যাকারী, অপহরণকারী, সন্ত্রাসী, এজাহারনামীয় আসামী, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, প্রতারকচক্র, ধর্ষণকারী, পর্ণোগ্রাফি বিস্তারকারী, চোরাকারবারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিশেষত সাম্প্রতিক সময়ে অনেকগুলো ক্লুলেস ও চাঞ্চল্যকর হত্যা ঘটনার দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি করে র‌্যাব সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। নিহত রাকিবুল ইসলাম ( উজ্জল) দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন ভাদাইল এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থেকে নতুন ইপিজেডে প্যাক্সার বাংলাদেশ লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানায় চাকুরী করে আসছিল। গত ০১ জুলাই ২০২২ তারিখ আনুমানিক ১৮.১৫ ঘটিকায় রাকিবুল ইসলাম (উজ্জল)’কে বিবাদী মোঃ জুয়েল রানা (২৭) মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন ভাদাইল মধ্যপাড়া এলাকায় ডেকে নিয়ে যায় এবং পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিবাদী মোঃ জুয়েল রানা, আহম্মেদ রবি @ রবিউল এবং মোঃ রাজু মিয়াসহ আরো অঞ্জাত ২/৩ জন মিলে রাকিবুলকে লোহর রড ও দেশীয় অস্ত্র দ্বারা আঘাত করতঃ গুরুতর জখম করে মুমূর্ষু অবস্থায় রেখে পালিয়ে যায়। পরে রাকিবুল ইসলামের পরিবার খবর পেয়ে উক্ত স্থানে উপস্থিত হয়ে রাকিবুলকে অঙ্গান অবস্থায় তাৎক্ষণিক নিকটস্থ নারী ও শিশু কেন্দ্র হাসপাতালে নিয়ে যায়। উক্ত হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার ভিকটিমের অবস্থার আশংকা জন দেখে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে ভিকটিমের ভাই ভিকটিমকে মূমুর্ষ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং উক্ত হাসপাতালে আইসিইউ না থাকায় ভিকটিমের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সংক্রান্তে ভিকটিমের ভাই মোঃ সুজন মাহমুদ (২৯) বাদী হয়ে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানায় একটি মামলা রুজু করেন, যার নম্বর-০৯, তারিখ ০৩/০৭/২০২২ ইং, ধারা- ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬/৩৪ পেনাল কোড । গত ০৪ জুলাই ২০২২ তারিখ আনুমানিক সকাল ১০০০ ঘটিকায় ভিকটিম রাকিবুল ইসলাম @ উজ্জল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়। এই নির্মম হত্যাকান্ডের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১ বর্ণিত হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং হত্যাকারীকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে দ্রুততার সাথে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৭/০৭/২০২২ জুলাই ২০২২ তারিখ ২০.২০ ঘটিকায় র‌্যাব-১, উত্তরা, ঢাকার একটি আভিযানিক দল তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জিএমপি, গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বর্ণিত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ১) মোঃ জুয়েল রানা (২৭), পিতা- মৃত আঃ সামাদ, জেলা- বগুড়া, ২) আহম্মেদ রবি @ রবিউল (২০), পিতা- মৃত জলি প্রামণিক, জেলা-বগুড়া এবং ৩) মোঃ রাজু মিয়া (২২), পিতা-গোলাম রাব্বানী প্রামাণিক, জেলা-বগুড়াদের’কে গ্রেফতার করে। এ সময় ধৃত আসামীদের নিকট হতে ০২ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা পোশাক শ্রমিক রাকিবুল ইসলাম উজ্জল (২৪)’কে হত্যার কথা স্বীকার করেন। আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায় যে, হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী জুয়েল রানা। গত ০১ জুলাই ২০২২ তারিখে ধৃত আসামী মোঃ জুয়েল রানা (২৭) ভিকটিম রাকিবুল ইসলাম @ উজ্জল’কে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন ভাদাইল মধ্যপাড়া এলাকায় ফোনের মাধ্যমে ডেকে নিয়ে আসে। বিবাদী জুয়েল রানা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিমকে নিয়ে ঘটনাস্থল আশুলিয়ার মধ্যপাড়া জনৈক শিকদারের বাড়ির সামনে ফাঁকা জায়গায় পৌঁছামাত্রই পূর্ব থেকেই অবস্থান নেওয়া ধৃত আসামীগণ যথাক্রমে মোঃ জুয়েল রানা, আহম্মেদ রবি @ রবিউল এবং মোঃ রাজু মিয়া পলাতক আসামী সুমন, মিল্লাদ, ইটলসহ আরো অঞ্জাতনামা ২/৩ জন ভিকটিমকে লোহার রড, কাঠের লাঠি, কাঠের বাটাম দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী জুয়েল রানা ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন অংশে হত্যার উদ্দেশ্যে চাকু দিয়ে আঘাত করতে থাকে। ভিকটিম গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়লে ধৃত আসামীরা ভিকটিমকে অচেতন অবস্থায় উক্ত স্থানে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর ধৃত আসামীরা বিভিন্ন জেলায় আত্মগোপনে অবস্থান করতে থাকে মর্মে স্বীকার করে।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ