আধুনীক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণে সরকারি সহায়তা দাবী পাবনায় প্রাচীন পদ্ধতিতে সংরক্ষণ পেঁয়াজে পঁচন, কৃষকদের লাখ লাখ টাকা লোকসান স্টাফ রিপোর্টারঃ মোঃ রুবেল হোসাইন তুহিন তালুকদার। ৩০ জুলাই ২০২২, উত্তরাঞ্চলের মধ্যে পেঁয়াজ ভান্ডার হিসেবে খ্যাত পাবনায় টিনের ঘর বা সেমিপাকা ঘরে বাঁশের মাচা তৈরী করে প্রাচীন পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা হয়। এতে পেঁয়াজে পচন ধরায় প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা লোকসান গুণতে হয় পেঁয়াজ চাষীদের। ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা আধুনীক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে সরকারি সহায়তা কামনা করছেন।পাবনার সুজানগরে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে প্রায় ১৮হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করা হয়েছিল। অনুকূল আবহাওয়া আর জমিতে সঠিক সময়ে সার-বিষ দেওয়ায় পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ২লক্ষ ২১হাজার মেট্রিক টন। উপজেলার অধিকাংশ কৃষক এ বছর তাদের জমিতে উৎপাদিত পেঁয়াজের ফলনে বেশ খুশি। কিন্তু প্রাচীন পদ্ধতিতে দীর্ঘ মেয়াদে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে না পারায় তারা কাঙ্খিত দামে বিক্রি করতে পারছেন না।উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের আদর্শ পেঁয়াজ চাষী কামরুজ্জামান বলেন, পেঁয়াজের ভরা মৌসুমে বাজার একদম কম থাকে। ওই সময় পেঁয়াজ বিক্রি করলে কৃষকের উৎপাদন খরচই উঠেনা। তবে আধুনীক পদ্ধতিতে দীর্ঘ মেয়াদে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে ভাল বাজার দেখে পর্যায়ক্রমে বিক্রি করতে পারলে কৃষকের লাভ হয়। কেননা পেঁয়াজের ভরা মৌসুমে যে পেঁয়াজ প্রতিমণ ৯‘শ থেকে ১হাজার টাকা দরে বিক্রি হয় ঠিক সেই একই মানের পেঁয়াজ ঘরে সংরক্ষণ করে ৩/৪মাস পরে বিক্রি করলে ১৪‘শ থেকে ১৫‘শ টাকা মণ দরে বিক্রি করা যায়। কিন্তু বর্তমানে বাঁশের মাচা তৈরী করে যে পদ্ধতি পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা হয় তাতে দীর্ঘ মেয়াদে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যায়না। এ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করায় ব্যাপক পচন ধরে এবং শুকিয়ে ওজন একদম কমে যায়। ফলে কৃষকের খুব একটা লাভ হয় না। তাছাড়া বাঁশের মাচা তৈরী করতে অনেক খরচ হয়। উপজেলার মানিকহাট গ্রামের পেঁয়াজ চাষী ওমর আলী প্রামাণিক বলেন ২/৩‘শ মণ পেঁয়াজ সংরক্ষণের উপযোগী একটি প্রাচীন পদ্ধতির বাঁশের মাচা তৈরী করতে প্রায় ৫০হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু তারপরও ওই মাচায় প্রয়োজনীয় আলো-বাতাস না ঢুকলে পেঁয়াজে পচন ধরে ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়। উপজেলার বোনকোলা গ্রামের ভুক্তভোগী পেঁয়াজ চাষী উজ্জ্বল হোসেন মোল্লা বলেন এ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করায় প্রায় ২৫শতাংশ পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়। এতে কৃষকের প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়। ভুক্তভোগী পেঁয়াজ চাষীরা উন্নত এবং আধুনীক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে সরকারি সহায়তা কামনা করছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাফিউল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ড পেঁয়াজ সংরক্ষণে প্রাচীন পদ্ধতির বাইরে বিকল্প কোন ব্যবস্থা নেই। তবে পেঁয়াজের পচনরোধে যে সকল বাঁশের মাচায় পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা হয় সেখানে প্রয়োজনীয় আলো-বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা রাখেতে হবে। সেই সঙ্গে মাচায় পেঁয়াজ পাতলা করে রাখেতে হবে এবং মাঝেমধ্যেই তা দেখভাল করতে হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ