এম,ডি রেজওয়ান আলী, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:- দিনাজপুর বিরামপুর উপজেলার খয়েরবাড়ি মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসাটিতে গত তিন বছরে পাসের হার ছিল ৮৭ শতাংশ। এবছরে দাখিল পরীক্ষায় ২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কেউ পাস করেন নাই। আজ সোমবার (১৩ মে) সরজমিনে জানা যায়,এমন অবস্থায় ছাত্র ছাত্রীদের অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।এবিষয়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা বলছেন,দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানে পাসের হার বরাবরই ভালো। এ বছরের ফলাফল অপ্রত্যাশিত হয়েছে। ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের জন্য তাঁরা শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করবেন। চলতি বছর দাখিল পরীক্ষায় খয়েরবাড়ি মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ২৪ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেন। রোববার দুপুরে এসএসসি,দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। দাখিল পরীক্ষায় ওই প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি।
উল্লেখ্য,২০২৩ সালে দাখিল পরীক্ষায় ২৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২৪ জন পাস করেছিল পাসের হার ছিল ৮৬ শতাংশ। ২০২২ সালে ২১ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করে ১৭ জন। ২০২১ সালে ২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে ১৯ জন। ১৯৮৫ সালে খয়েরবাড়ি মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হয়। তখন থেকে প্রতি বছর মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিবছর পরীক্ষায় পাসও করেছে শিক্ষার্থীরা। এত বছর পর হঠাৎ করে প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করায় এ নিয়ে এলাকায় শোরগোল পড়েছে। বর্তমান মাদ্রাসায় ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬০ জন রয়েছে। ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে জানতে আজ সোমবার সকালে প্রতিষ্ঠানের সুপারিনটেন্ডেন্ট আবদুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।এবিষয়ে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক লুৎফর রহমান বলেন,এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকে মাদ্রাসায় এমন ফল বিপর্যয় কখন হয়নি। এই ফলাফল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। চলতি বছরেও কয়েকজন মেধাবী শিক্ষাথী ছিল। এ রকম খারাপ ফল হওয়ার কথা নয়। ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের জন্য মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করা হবে। দাখিল পরীক্ষার এমন ফলাফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক গন। এ জন্য তাঁরা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের গাফিলতি ও উদাসীনতাকে দায়ী করছেন। দাখিল পরীক্ষায় অ-উত্তীর্ণ এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আব্দুস সালাম প্রতিবেদক কে জানান,আমার মেয়ে নবম শ্রেণিতে থাকা পর্যন্ত আমি এই মাদ্রাসায় প্রায় খোঁজখবর নিতাম। প্রায় সময় দেখতাম এই মাদ্রাসায় কোনো লেখাপড়া হয় না। মাদ্রাসার মাস্টারগন ক্লাসে গল্প করেই সময় পার করেন। মাদ্রাসার সুপার (সুপারিনটেন্ডেন্ট) ঠিকমতো মাদ্রাসায় উপস্থিত থাকেন না। এ বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আনিসুর রহমান প্রতিবেদক কে জানান,আমার বাবা এই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা। আমি এখন সভাপতির দ্বায়িত্বে রয়েছি। আমি নিয়মিত মাদ্রাসায় গিয়ে লেখাপড়া ও অন্যান্য বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে থাকি। এই মাদ্রাসা তো উপজেলা পর্যায়ে পুরস্কারও পেয়েছে। এখন রেজাল্ট কেন খারাপ হলো,সেটি তো বুঝতে পারছি না। মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তারপর কী করা যায়,সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শমসের আলী মণ্ডল বলেন,খয়েরবাড়ি মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ ফেল করেছে। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তর থেকে কারণ দর্শানোর জন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রধানকে একটি চিঠি দেওয়া হবে। কী জবাব আসে,সেটি দেখে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান। এ অবস্থায় এলাকায় ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবক ও এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ