বিশেষ প্রতিনিধি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় প্রতি ইউনিয়নে একটি করে মোট ১২টি বিএস কোয়ার্টার রয়েছে। কৃষি উন্নয়নের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের জন্য তিন যুগ আগে নির্মিত বিএস কোয়ার্টারগুলোর কোনো উন্নয়ন নেই। উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগায় সেগুলো বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। এই কোয়ার্টারগুলোর বেশির ভাগই এখন পরিত্যক্ত।তাই এগুলোতে বসছেন না কোনো উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা। যার ফলে কৃষি সেবা গ্রহণ থেকে যেমন বঞ্চিত হচ্ছে কৃষকগণ।ঠিক তেমনি পরিতাক্ত ভবনগুলো মাদক অসামাজিক কার্যকলাপে আখড়া হয়েছে। বেতাগৈর বিএস কোয়ার্টার, শেরপুরের বিএস কোয়ার্টারের ৫০ শতাংশ চলে গেছে নদীগর্ভে, খারুয়ার বিএস কোয়ার্টারের ৫০ শতাংশ চলে গেছে ব্যক্তি দখলে। এ যেন দেখার কেউ নেই। বর্তমান সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান হলেও এ উপজেলায় বিএস কোয়ার্টার গুলোতে তেমন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬২ সালের দিকে তৎকালীন সরকার এই ভবনগুলো প্রথমে সিড গোডাউন (বীজাগার) হিসেবে নির্মাণ করে।পরবর্তীতে এই কর্মসূচি বাতিল করা হলে সরকার সিড গোডাউনগুলো ১৯৮০ সালের দিকে ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মী-ব্লক সুপারভাইজারদের (বর্তমানে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা) বসবাসের জন্য সংস্কার করে কোয়ার্টারে পরিণত করা হয়। মাত্র ৫০ টাকা ভাড়ায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এসব কোয়ার্টারে থাকতেন। সরেজমিন পরিদর্শন করে জানা গেছে, এসব ব্যয়বহুল কোয়ার্টারগুলো মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কৃষি বিভাগের ব্লক সুপারভাইজারদের (বিএস) আবাসিক এবং অফিস হিসেবে ব্যবহারের কথা থাকলেও বর্তমানে বেশির ভাগ কোয়ার্টারেই বিএসরা বসবাস করছেন না। তাই কোয়ার্টারগুলোতে বসবাস না করা, সংরক্ষণের ও সংস্কারের অভাবে এগুলো এখন অনেকটাই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেকটাই ফাঁকা ও নির্জন হওয়ায় তা বিভিন্ন জীবজন্তুর আশ্রয়স্থল, অপরাধীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্ট বিভাগ কোয়ার্টারগুলোতে নজরদারি না রাখায় চুরি হয়ে গেছে এগুলোর দরজা-জানালা। এমনকি এসব ভবন থেকে ইট খুলে নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কোনো কোনো কোয়ার্টার এলাকার মাটিও কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।শেরপুর,নান্দাইল সদর ইউনিয়নের স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আধুনিক প্রযুক্তি ও ভালো বীজ সরবরাহের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের থাকার কথা থাকলেও এসব কোয়ার্টারগুলোতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা না থাকায় তাদের কৃষি বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে উপজেলা সদরে যেতে হয়। এ ব্যাপারে কয়েকজন বিভিন্ন ইউনিয়নে দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এগুলোতে বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের একটি স্থায়ী ভাবে বসার জন্য স্থান দরকার । উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার প্রতিনিধিকে জানান, এসব পরিত্যক্ত কোয়ার্টার ভেঙে ওই স্থানে ইউনিয়নের কৃষকদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কর্মচারী কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এ ব্যাপারে উন্নয়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ