উজ্জ্বল কুমার সরকারঃ
নওগাঁর আত্রাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে হামলা,ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে একাধিকবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশের কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভূক্তভোগীরা। ঘটনাটি উপজেলার ৮নং হাট কালুপাড়া ইউনিয়নের দ্বীপ চাঁদপুর গ্রামের। এ ঘটনায় অত্র এলাকাজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভূক্তভোগী দ্বীপ চাঁদপুর গ্রামের প্রয়াত শিক্ষক আব্দুল করিম মন্ডলের স্ত্রী মরিয়ম বেওয়া জানান, ১৯৪৬ সালের কবলা দলিল এবং ১৯৬২ সালের রেকর্ড অনুযায়ী এস.এ ৬৭ নং খতিয়ানে তার শশুর (মৃত মিরজান আলী) এর নিজ নামীয় ১১ শতক সম্পত্তি নিয়ে একই গ্রামের প্রতিপক্ষ মৃত আমির আলীর ছেলে মকবুল গংদের সঙ্গে প্রায় ২ বছর যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল। এরই প্রেক্ষিতে ওই বিবাদমান সম্পত্তি নিয়ে গত ২০২২ সালের ৩ মার্চ থেকে অদ্যবধি আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। অঃ প্রঃ মামলা নং ২৮/২২।তিনি আরও জানান, মামলা চলমান থাকাবস্থায় আদালতের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ২২ মার্চ (শুক্রবার) ভোরে প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে এসে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিবাদমান সম্পত্তি’র গোয়ালঘর,রান্নাঘর ও খড়ির ঘরে ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করেন। এর আগেও বিবাদমান জমির প্রায় শতাধিক বাঁশ কেটে বাড়ির সামনে বেড়া লাগিয়ে রাখেন প্রতিপক্ষের লোকজন। এতে তারা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন বলে জানিয়েছেন । এমতাবস্থায় ন্যায় বিচারের স্বার্থে সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন তারা। এবিষয়ে প্রতিপক্ষের মকবুল বলেন, কাগজ যার; জমি তার। আমরা বিরোধ চাইনা; আমরাও শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। মূলত সমাধান না হওয়ার কারণেই আমরা তাদের গোয়ালঘর ভেঙ্গে অন্যত্র সড়িয়ে রেখেছি। যাতে করে একটা সমাধান হয়। তবে অগ্নিসংযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। হাট কালুপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন বলেন, জানামতে দীর্ঘদিন যাবৎ জমিটি প্রয়াত শিক্ষক আব্দুল করিম মন্ডলের দখলে আছে। কিন্ত সম্প্রতি প্রতিপক্ষের মকবুল গংরা জমিটি তাদের বলে দাবি করায় এ বিরোধের সৃষ্টি। তবে, শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য উভয়পক্ষের লোকজনকে নমনীয় হওয়ার জন্য আহবান জানান তিনি। এ ব্যাপারে আত্রাই থানার ওসি- জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ