উজ্জ্বল কুমার সরকারঃ
কম্পিউটার কেনার মতো সামর্থ্য নেই টাইপরাইটার সাবিনার জীবন যুদ্ধে হার না মানা সংগ্রামী নারী নওগাঁর টাইপরাইটার সাবিনার পাশে দাঁড়িয়েছে মালিশা ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাকে একটি ল্যাপটপ উপহার দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক মো. গোলাম মওলা সাবিনার হাতে উপহারের ল্যাপটপ তুলে দেন। এসময় নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, প্রথম আলোর নওগাঁ প্রতিনিধি ওমর ফারুক, ঢাকাপ্রকাশের নিজস্ব প্রতিনিধি শামীনুর রহমান, দেশ রূপান্তরের পারভেজ রহমান, নাগরিক টিভি জেলা প্রতিনিধি সুমন আলী, জাগো নিউজ জেলা প্রতিনিধি মশিউর রহমানসহ অন্য গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কম্পিউটার কেনার মতো সামর্থ্য নেই টাইপরাইটার সাবিনা ’ল্যাপটপ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, আমি কী পরিমাণ খুশি হয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। এই ল্যাপটপ দিয়ে এখন সহেজেই কাজ করতে পারব। আমার পাশে দাঁড়ানোর জন্য মালিশা ফাউন্ডেশন ও ঢাকাপ্রকাশকে অশেষ ধন্যবাদ।
মালিশা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা জাহিদ আব্দুল্লাহ বলেন, গত ১০ মার্চ ঢাকাপ্রকাশ অনলাইন নিউজ পোর্টালে ‘কম্পিউটার কেনার মতো সামর্থ্য নেই টাইপরাইটার সাবিনার’ এমন একটি সংবাদ আমাদের নজরে আসে। তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করে তার পাশে দাঁড়াতে একটি ল্যাপটপ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে মালিশা ফাউন্ডেশন।
তিনি বলেন, মালিশা ফাউন্ডেশন চীন থেকে পরিচালিত হয়। যারা সারা পৃথিবীতে সুবিধাবঞ্চিত কিন্তু মেধাবী এমন শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করে থাকে। ১৫টি দেশের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গড়া মালিশা এডুকেয়ার নামে আমাদের একটি প্রতিষ্ঠান আছে যাদের একটা পার্ট হচ্ছে মালিশা ফাউন্ডেশন। এখানে আমরা যেসব শিক্ষার্থীরা অর্থের অভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে না তাদের উচ্চতর শিক্ষায় অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করে থাকি। আমাদের হেড অফিস চীনে, বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৫টি দেশে আমাদের অফিস রয়েছে। আমরা শিক্ষার পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া লোকজনকেও সহায়তা করে থাকি। জেলা প্রশাসক গোলাম মওলা বলেন, সংগ্রামী সাবিনার পাশে দাঁড়ানোর জন্য মালিশা ফাউন্ডেশন ও ঢাকাপ্রকাশকে সাধুবাদ জানাই। মালিশা ফাউন্ডেশনের দেওয়া উপহারে সাবিনা এখন সহজেই তার কাজ করতে পারনেন। এভাবে সমাজের সামর্থবানরা এগিয়ে আসলে অনেকের জীবনই আরও সহজ হবে। সাবিনা ইয়াসমিনের বাড়ি নওগাঁ শহরের বাইপাস ব্রিজ এলাকায়। এক যুগ ধরে নওগাঁ জজ কোর্টের সামনে টাইপিস্টের কাজ করে জীবিকানির্বাহ করছেন তিনি। টাইপরাইটিংয়ের কাজ করেই এক মেয়েকে নওগাঁ সরকারি কলেজে পড়াশোনা করাচ্ছেন। সাবিনা বিয়ে করেছিলেন ২০০৬ সালে। স্বামীর সঙ্গে দুই বছর পর বিচ্ছেদ হয়ে যায়। শিশু মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে হয়। এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় ১০ হাজার টাকায় একটি টাইপ মেশিন কিনে ২০০৯ সাল থেকে জজ কোর্ট চত্বরে টাইপিস্টের কাজ করেন তিনি।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ