উজ্জ্বল কুমার সরকার, নওগাঁ:
নওগাঁর মান্দায় প্রায় এক যুগ ধরে আত্রাই নদীর বেড়িবাঁধটি ভাঙা। সংস্কার না করায় একদিকে যেমন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় যাতায়াতের সমস্যা এবং অন্যদিকে প্রতি বছর বন্যার সময় পানি ঢুকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় শতশত নদী পাড়ের বসবাসকারী মানুষদের।
জানা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে উপজেলার কশব ইউনিয়নের পাঁজরভাঙ্গা এলাকায় আত্রাই নদীর বেড়িবাঁধটি ২০১২ সালের ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়। এর প্রায় ১২ বছরেও এটি সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে বাঁধটি দ্রুত মেরামত না করলে বর্ষাকালে এসব মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কশব ইউনিয়নের আত্রাই নদীর বেড়িবাঁধটি পাঁজরভাঙ্গা খেয়াঘাট থেকে ভাদুর বাড়ি পর্যন্ত এখনো ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। বেড়িবাঁধটি ভাঙা থাকার কারণে মোটরসাইকেল, ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ি চলাচল করতে পারছে না। ফলে ধান, গম, বিভিন্ন ফসল মাথায় করে বহন করতে হচ্ছে নদী পাড়ের বাসিন্দা মো. নাসের উদ্দিন বলেন, আমরা কী পাপ করেছি। প্রায় ১২ বছর পার হওয়ার পরও বেড়িবাঁধটি এখন পর্যন্ত সংস্কার করা হয়নি। সেই সময় থেকে আমাদের অতি দুঃখ কষ্টে জীবনযাপন করে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। ফলে বাঁধটি সংস্কার করা অতীব জরুরি।
স্থানীয় মো. লবির উদ্দিন বলেন, বর্ষা এলেই রাস্তার ওপর দিয়ে চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। অন্যদিনে সামান্য বন্যা এলে পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। দীর্ঘদিনেও রাস্তাটি মেরামতের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় আমরা খুব দুর্ভোগের শিকার হচ্ছি। এ ব্যাপারে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফাইজুর রহমান বলেন, মান্দায় আত্রাই নদীর বেড়িবাঁধগুলো আমাদের পানি উন্নয়নের বোর্ডের আওতায় নয়। বেড়িবাঁধগুলো অনেক আগে করা হয়েছে। মূলত সংশ্লিষ্ট উপজেলার পিআইও এবং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সংস্কার করে থাকে। কশব ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফজলুল রহমান বলেন, আমাদের কশব ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি এলাকায় রাস্তাগুলো সংস্কারের অভাবে পড়ে আছে। এতে চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাটি সংস্কারের জন্য একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে এটি সংস্কার করা হবে। মান্দা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো. রেজাউল করিম বলেন, কশব ইউনিয়নের পাঁজরভাঙ্গা এলাকায় আত্রাই নদীর বেড়িবাঁধটি সংস্কার না করায় সামান্য বর্ষা বা বন্যার পানি ঢুকে প্লাবিত হয়। তবে এই ভাঙা বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য মেট্রিসিন করা ব্যাধ্যতামূলক। অনেক মোটা অংকের বরাদ্দের প্রয়োজন। কিন্তু এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে কোনো বরাদ্দ পাইনি।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ