উজ্জ্বল কুমার সরকারঃ
নওগাঁয় ইটভাটা, হাট-বাজার, কারখানা ও ব্যবসায়ীদের থেকে চাঁদা আদায়ের অর্থ দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনের অভিযোগ উঠেছে রাণীনগর উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে আমন্ত্রণপত্রে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নাম না রাখায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এমন বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ডে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাবাসসুমের দিকে আঙুল তুলেছেন সবাই।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক উপজেলার সব ইটভাটা থেকে ১০-১৫ হাজার টাকা ও বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে চাঁদা আদায় করা হয়েছে। আবাদপুকুর হাট থেকে পনের হাজার টাকা, ত্রিমোহনী হাট থেকে পাঁচ হাজার টাকা, ঠিকাদার গ্রুপের কাছ থেকে বিশ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা চাউলকল মালিক গ্রুপ, সব বেকারি ফ্যাক্টরি, বিভিন্ন সমিতি, এনজিওসহ অন্যান্য অর্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্নখাত থেকে লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায় করা হয়েছে। সেই আদায় করা টাকা দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তাদের জন্য একই রকমের পাঞ্জাবি ও শাড়ি ক্রয় করা থেকে শুরু করে সব আয়োজনে ব্যয় করার পর যা অবশিষ্ট থাকে তাও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে জাতীয় দিবস উপলক্ষে ছাপানো উপজেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণপত্রে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নাম রাখার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মনগড়া কাণ্ড নানারকমের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ ছাড়াও অন্যান্য সম্মানিত ব্যক্তিদেরও উপেক্ষিত করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার এক ইটভাটার মালিক জানান, ২৬ মার্চ উদযাপনের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে ছোট ভাটাগুলোকে দশ হাজার টাকা আর থানা পুলিশকে পাঁচ হাজার করে টাকা দিতে হয়েছে। টাকা দিতে একটু দেরি হওয়ায় চাঁদার টাকা নেওয়ার জন্য বাড়িতে লোক পাঠানো হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে জিম্মি। তারা যখন যেভাবে যা বলে তা ইচ্ছে না থাকলেও করতে হয়। তা না হলে কারণ ছাড়াই নানাভাবে হয়রানি করে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ দুলু মোবাইল ফোনে জানান, আমন্ত্রণপত্রে নাম না রাখার বিষয়ে ইউএনওকে জানালে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি দেখছেন। কিন্তু এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নতুন করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। নিয়ম অনুসারে আমন্ত্রণপত্রে অবশ্যই সম্মানসূচক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নাম রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ইউএনও এমন কাণ্ড কেন করলেন তা আমার অজানা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি আনোয়ার হোসেন হেলাল মোবাইল ফোনে জানান, প্রটোকল অনুসারে যে কোনো জাতীয় দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। কিন্তু অনুষ্ঠানে যদি স্থানীয় সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকেন তাহলে তার সম্মানার্থে তিনি পতাকা উত্তোলন করেন আর বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। সেই নিয়মানুসারে অবশ্যই আমন্ত্রণপত্রে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নাম রাখতে হবে তা না হলে তাকে অপমানিত করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে রাণীনগর থানার ওসি আবু ওবায়েদ মোবাইল বলেন, জাতীয় দিবস উপলক্ষে কারও কাছ থেকে কোনো প্রকারের সহযোগিতা গ্রহণ করা হয়নি। যিনি পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি বলেছেন তিনি নিশ্চয় ভুল ও মিথ্যে বলেছেন। এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাবাসসুমের মোবাইল ফোনে ও হোয়াটসাঅ্যাপে ফোন দিলে ফোন রিসিভ না হওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ