উজ্জ্বল কুমার সরকার, নওগাঁঃ
নওগাঁর-বলিহার-রাজবাড়িকে-পুরাকীর্তি-ঘোষণানওগাঁর সদর উপজেলার বলিহার ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বলিহার রাজবাড়ি। নওগাঁর পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম আরজু জানান, গেজেট হাতে পাওয়ার পর প্রাচীন স্থাপনাটি সংরক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। এরই মধ্যে সেখানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাইনবোর্ড দেয়া হয়েছে।নওগাঁ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বলিহার রাজবাড়ি সংরক্ষণের ঘোষণা দিয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। সব প্রক্রিয়া শেষে রাজবাড়িকে পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে অধিদপ্তর। এ নিয়ে এক সপ্তাহ আগে সাইন বোর্ড টানানো হয়েছে।২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) স্বাক্ষরিত একটি পত্রে নওগাঁ সদর উপজেলার ‘বলিহার রাজবাড়ি’র ভূমির তফসিল জানতে চেয়ে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কাছে একটি চিঠি পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বলিহার রাজবাড়ির তফসিল জানতে চেয়ে চিঠি পাঠান। এরপর ভূমির তফসিল প্রস্তুত করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গত ৩০ জানুয়ারি পাঠানো হয় নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে।
ভূমি তফসিলে বর্ণিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি ১৯৬৮ সালের পুরাকীর্তি আইন অনুসারে সংরক্ষণযোগ্য বলে সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়। পুরাকীর্তিস্থলের জন্য ৩.৬৩ একর ভূমি জরিপের মাধ্যমের নির্ধারণ করা হয়।সম্রাট আওরঙ্গজেব কর্তৃক জয়গির পেয়ে বলিহার জমিদার পরিবার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নৃসিংহ চক্রবর্তী। বলিহার জমিদারগরা তাদের জমিদারির বিভিন্ন স্থানে স্থাপনা গড়ে তোলেন, যার একটি বলিহার রাজবাড়ি।নওগাঁর পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম আরজু জানান, গেজেট হাতে পাওয়ার পর প্রাচীন স্থাপনাটি সংরক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। এরই মধ্যে সেখানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাইনবোর্ড দেয়া হয়েছে।তিনি জানান, স্থাপনাটি সংরক্ষণ ও সংস্কার করে আগের আদলে ফিরিয়ে আনতে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এ কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে জ্যেষ্ঠ কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে বলিহার রাজবাড়িটিকে আকর্ষণীয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ