উজ্জ্বল কুমার সরকার, নওগাঁঃ
নওগাঁ জেলা রানীনগর উপজেলার আবাদপুকুর হাটে জরাজীর্ণ অবস্থায় দেখার কেউ নেই ,
সরকারের রাজস্ব আদায়ের বড় একটি খাত হচ্ছে হাটবাজার। যে হাট থেকে কোটি টাকা রাজস্ব আদায়, অথচ সেই হাটেরই জরাজীর্ণ অবস্থা। নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর হাটের কথা। বর্তমানে সংস্কারের অভাবে হাটটি বেহাল।বছরের পর বছর বরাদ্দকৃত নির্ধারিত অর্থের সঠিক ব্যবহার না করায় বৃহত্তম আবাদপুকুর হাটের এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের মধ্যে কেনাবেচা করতে হচ্ছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের স্থানীয়রা বলছেন, জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম ধান ও পশুর হাট হচ্ছে উপজেলার আবাদপুকুর হাট। মাছ-মাংস ও সবজি বিক্রেতাদের জন্য কয়েকটি শেড নির্মাণ করে দেওয়া হলেও বর্তমানে এই হাটের মাছপট্টির শেডগুলোর টিন মরিচায় নষ্ট হয়ে গেছে। বছরের পর বছর মেরামত না করায় বেহাল হয়ে পড়ে আছে।সরেজমিন দেখা গেছে, হাটের শেডগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ। কোথাও টিনের চালা ভেঙে পড়ে আছে। আবার কোথাও টিনের চালা নেই, ফাঁকা পড়ে আছে। তাই কোনো কোনো ব্যবসায়ী তাঁবু টাঙিয়ে ব্যবসা করছেন।সপ্তাহের রোববার ও বুধবার হাটের দিনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত ক্রেতা বিক্রেতাদের সমাগম ঘঠে এই হাটে। আর সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে বসে বাজার। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতে ভিজে আর শুষ্ক মৌসুমে রোদে পুড়ে বেচাকেনা করতে হয় হাটে আসা মানুষের। এ ছাড়া হাটে একটি ব্যবহারযোগ্য গণশৌচাগার না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় সবাইকে। হাটের মধ্যে চলাচলের জন্য রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের জন্য দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্ভোগের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।খোঁজ নিয়েজানা যায়, ২০২২ সালে এই হাটটির ইজারামূল্য ছিল ৮২ লাখ টাকা। এ ছাড়া ভ্যাট ও অন্যান্য খাত মিলে সরকার এই হাট থেকে রাজস্ব হিসেবে কোটি টাকা আয় করে আসছে। সরকারি নিয়ম অনুসারে প্রতি বছর সরকারি ইজারা মূল্যের শতকরা ১৫ শতাংশ অর্থ হাটের সংস্কার, মেরামত ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজে ব্যয়ের নিয়ম থাকলেও উপজেলা প্রশাসন তা মানছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
হাটের কসাই রশিদুল শেখ বলেন, ‘ভাই, শেডটা ঠিক করার ব্যবস্থা করে দেন। আমার দাদা মোশাররফ কসাই ও বাবা সোলেমান কসাই ব্যবসা করেছেন। আমি আমার বাবার সঙ্গে ভাগা দিয়ে মাংস বিক্রি করেছি। এখানে আমরা সাতজন কসাই ব্যবসা করি। তবে সামনে বর্ষাকাল, তাই দুশ্চিন্তা এখন থেকেই। কারণ বৃষ্টি শুরু হলে মাংস ভিজে যাবে। অথচ আমরা ঠিকমতো হাটের টোল দিয়ে থাকি।’ তার মতো হাটে আসা কবুতর ব্যবসায়ী ও অন্যান
ব্যবসায়ীরাও একই কথা বললেন।হাটের ইজারাদার হেলাল উদ্দিন হেলু মেম্বার বলেন, বর্তমানে হাটের প্রতিটি অংশের শেডের চরম দশা। অনেকে আবার নিজেদের অর্থ দিয়ে ভেঙে যাওয়া শেডগুলো মেরামত করার চেষ্টা করছেন। উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিগত কয়েক বছরের হাটের ইজারা থেকে বরাদ্দকৃত যে পরিমাণ অর্থ জমে আছে সেই অর্থ দিয়ে যদি হাটের আধুনিকায়নের কাজ করা হয় সেটাই আমাদের জন্য অনেক। কর্মকর্তারা ইচ্ছে করলেই হাটের এমন দশা থেকে আমাদেরকে মুক্ত করতে পারেন। তাই এমন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রতি দ্রুত সুদৃষ্টি দেওয়ার অনুরোধ করছি।উপজেলা প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন বলেন, গত বছর তৎকালীন ইউএনও শাহাদাত হুসেইনের নির্দেশে উপজেলার সব হাট ও বাজারের আধুনিকায়নের কাজের জরিপ সম্পন্ন করে জমা দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি বদলি হওয়ার কারণে আর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এই বাবদ অর্থ ইউএনওর নিজস্ব অ্যাকাউন্টে জমা থাকে এবং সেই অর্থ খরচের বিষয়ে একমাত্র তিনিই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। তাই এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যে কোনো সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আমাকে জানালেই দরপত্রের মাধ্যমে কাজ শুরু করা যেতে পারে।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মেতাবাসসুম বলেন, আমি গত বছরের অক্টোবরে এই উপজেলায় যোগদান করেছি। তাই এই বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুতই পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ