মো.মাইনুল ইসলাম, সাভার ঢাকা: বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার এই কমিটি। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া সাংগঠনিক কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০১৪ সালে। এরপরে আর কোন সম্মেলনের মুখ দেখেনি কমিটিটি।
উপজেলার একাধিক নেতাকর্মী বলছে, কেন যে নতুন কমিটি দেয় না সেটা তো আমরা বলতে পারব না। নতুন কমিটি দেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার শুধুমাত্র আছে ঢাকা জেলা ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের। এ নিয়ে সাভার উপজেলা কমিটিতে থাকা নেতাকর্মীদের মাঝে বিড়ম্বনা দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মীরা জানান, আমাদের উপজেলায় দীর্ঘ মেয়াদী কমিটি থাকায় আমরা কোন কাজ করতে পারছিনা। নতুন কমিটি না আসা পর্যন্ত সংগঠন চাঙ্গা হবে না। আবার কমিটি দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় অনেক নেতা- কর্মীরা মুলদল আওয়ামী লীগে ঢুকে পড়েছে। এজন্য নেতা-নেতৃত্বের অভাব ও কর্মীর অভাব দেখা দিয়েছে এবং সংগঠনটি প্রায় ঝিমিয়ে পড়েছে। এদিকে কর্মীরা বলছে, আমাদের সাভার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি না হওয়া পর্যন্ত নতুন নেতৃত্ব না আসা পর্যন্ত পরিবেশ পরিস্থিতি ও সাংগঠনিক অবস্থান চাঙ্গা হবেনা। তবে সংগঠনটির একাধিক সূত্রের তথ্য মতে খুব শীঘ্রই এবং আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই কাউন্সিল হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।

এ বিষয়ে সাভার উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মামুন মাদবর বলেন, আমি যুবলীগ থেকে রাজনীতি শুরু করি দীর্ঘদিন যুবলীগে ছিলাম সেখান থেকে বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা জেলার সাভার উপজেলা কমিটির সহ- সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এবং আমার সংগঠনের নেতা- কর্মীদের নিয়ে সু-শৃংখল ভাবে আমি কাজ করে যাচ্ছি।
দেশ এখন উন্নয়নশীল ইতিমধ্যে দেশ-বিদেশে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে এবং আমি বলতে চাই এটা একমাত্র সম্ভব হয়েছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন জননেত্রী ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বারা। সারা বাংলাদেশে এখন উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে,এজন্য শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সকল নাগরিকের অধিকার বাস্তবায়িত হয়েছে এই উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বাস্তবায়নকে ধরে রাখতে হলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারো নৌকা মার্কার ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।

সাভার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবলীগের কাউন্সিলের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কাউন্সিলের জন্য নেতা কর্মীদের প্রস্তুত করছি এবং আমরাও প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। তবে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা কমিটি নতুন করে আবার উজ্জীবিত করতে হলে অতি শীঘ্রই কাউন্সিল করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি। এবার আসন্ন কাউন্সিলে আমি সাভার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হিসেবে প্রার্থী হতে চাই।

বর্তমান কমিটির সার্বিক বিষয়ে সাভার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাদের সাভার উপজেলা কমিটি দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় ঢাকা জেলা কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে কাউন্সিল হওয়ার কথা রয়েছে খুব শীঘ্রই সাভার উপজেলা কাউন্সিল হবে ইনশাল্লাহ। ২০১৪ সালে সর্বশেষ আমাদের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল এখন ২০২৩ সালে এসে কাউন্সিলের আভাস আমরা পেয়েছি তবে আগামী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে কেন্দ্র থেকে চিঠি আসলেই আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কাউন্সিলের প্রস্তুতি গ্রহণ করব। তিনি আরো বলেন, নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি। আমাদের নতুনদের কাজ করার সুযোগ করে দিতে হবে। কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসলে আমরাও তাদেরকে স্বাগত জানাবো।
আসন্ন সাভার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কাউন্সিল হলে আপনি কি সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি অনেক বছর ধরে সাভার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছি। তবে সম্মেলন হলে এবার আমি আর এই পদে পদপ্রার্থী হওয়ার ইচ্ছুক না,আমি আমার প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাভার উপজেলার মূল দলে যেতে ইচ্ছুক।

তার বর্তমান রাজনৈতিক অভিমত সম্বন্ধে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় সেই ৯১ থেকে ছাত্র রাজনীতি করে আসছি। আমার বাবাও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। আমাদের পুরো ফ্যামিলি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের দেশ হিসাবে বিশ্বের দরবারে স্বীকৃতি লাভ করেছে। আমি বলতে চাই দেশকে এখন দ্রুত উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, আমাদের বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন উন্নয়নের বাহক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। আপনারা অবগত আছেন যে, ১৫ বছর আগে দেশ উন্নয়নের কি অবস্থানে ছিল এবং বর্তমানে উন্নয়ন কি হয়েছে সেটা দেশের জনগণই জানেন এবং আমি মনে করি আমাদের বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে বিশ্বের দরবারে পরিচিত লাভ করেছে। আর সেটা আমাদের বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দ্বারাই সম্ভব হয়েছে। সবকিছুই এখন ডিজিটালে রূপান্তরিত হয়েছে এবং সবকিছুই এখন আপনারা হাতের নাগালেই পাচ্ছেন। দেশ বিদেশের খবরাখবর মুহূর্তই মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছে আপনাদের কাছে। ঢাকা থেকে ৬৪ টা জেলায় যে পরিমাণে উন্নয়ন হয়েছে তাতে ১৫ বছর আগে তুলনায় অনেক অনেক দেশ উন্নয়নের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সারা বাংলাদেশে যে পরিমাণে রাস্তাঘাট কালভার্ট পদ্মা সেতুসহ প্রতিটা গ্রামগঞ্জকে শহরে রূপান্তরিত করেছে। আর এগুলো সম্ভব হয়েছে একমাত্র আমাদের বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দ্বারা আমি জনসাধারণের জন্য আপনার মাধ্যমে বলতে চাই, আমাদের উন্নয়নের স্রোতকে ধরে রাখতে বঙ্গবন্ধুর নৌকায় শেখ হাসিনার নৌকা বাংলাদেশের জনগণের মার্কা নৌকায় ভোট দিয়ে আবারো আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতা আনতে হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ