প্রতিবেদক মোঃ সফিউল আলম

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের লক্ষ্যে আগামী ১৫ ই অক্টোবর সকাল ১১ টায় শ্রম ও পরিস্থিতি নিয়ে আবারো বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

আজ ০৬ অক্টোবর ২০২২ ইং তারিখে মাসকান্দা, ময়মনসিংহ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর উপমহাপরিদর্শকের কার্যালয় দি রোজ গার্মেন্টস ডিজাইনার লিমিটেড শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন উপমহাপরিদর্শক আরিফুজ্জামান, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর ময়মনসিংহ জেলা,শ্রম পরিদর্শক, আব্দুল্লা আল মামুন।
মালিকপক্ষের দুইজন প্রতিনিধি ১/আব্দুল মান্নান একাউন্টস অফিসার, উক্ত কারখানার কর্মরত 20 জন শ্রমিক,শ্রমিকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত: জুলাই এবং আগস্টের বকেয়া বেতন আগামী ১৪ ই অক্টোবরে মালিকপক্ষ পরিশোধ করবেন,শ্রমিকদের কে মামলা হামলা এবং স্থানীয় মাস্তানদের দিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করবেন না মালিকপক্ষ,সেপ্টেম্বর মাসের বেতন এবং কারখানা খোলার বিষয়ে আগামী ১৫ ই অক্টোবর/২২ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর প্রতিশ্রুতি দেন মালিকপক্ষ।

এর আগে কারখানা খোলার দাবিতে ময়মনসিংহের কলকারখানা অধিদপ্তরে সামনে সকাল-সন্ধ্যা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন রামপুর, ত্রিশাল,ময়মংমনসিংহে অবস্থিত দি রোজ গার্মেন্টস ডিজাইনার লিমিটেড ইউনিট 2 শ্রমিকরা।

এসময় শ্রমিকরা দাবী করে বলেন সকল বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ সহ বেআইনিভাবে বন্ধ রাখা কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে গতকাল ০২ অক্টোবর রবিবার ২০২২ ইং তারিখে সকাল ১০.০০ টা থেকে দিনভর ময়মনসিংহের, মাসকান্দা,কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক এর কার্যালয় এর সামনে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে এসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন দি রোজ গার্মেন্টস ডিজাইনার লিমিটেড ইউনিট 2 শ্রমিকরা।

অভিযোগ করে বলেন গত ২১ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করে কারখানার প্রধান ফটকে কাজ বন্ধের নোটিশ টানিয়ে দিয়েছে মালিকপক্ষ। বন্ধ দেওয়ার আগেও নতুন শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছে,যদি কাজ না থাকে তাহলে মালিক কেন নতুন করে শ্রমিক নিয়োগ করলেন এই প্রশ্ন তুলেছেন অনেক শ্রমিক। শ্রমিকদের দাবি মালিক কারখানাটি রাতের অন্ধকারে বেআইনিভাবে বন্ধ করে দিয়েছেন যার কোন ভিত্তি নাই। মালিক কৌশল হলো পুরাতন শ্রমিকদেরকে ছাঁটাই করে নতুন করে নিয়োগ করে কারখানা পরিচালনার পরিকল্পনা করছেন মালিকপক্ষ দাবি শ্রমিকদের।
শ্রমিকরা বলেন পূর্বের সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করে, গত ১ অক্টোবর ২০২২ তারিখে কারখানাটি খোলার কথা ছিল।কাজের উদ্দেশ্যে কারখানায় গিয়ে কারখানার প্রধান ফটকের তালা বদ্ধ দেখতে পাই এখন আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, বাড়ির মালিকরা ঘর ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে আমাদের কিছু করার নাই, হয় কারখানা খুলে দিবে নায়তো আমাদের সমস্ত পাওনাদি বুঝাই দিবে দাবি শ্রমিকদের।

শ্রমিকরা অভিযোগ করেন শ্রম আইনে সাত কর্মদিবসের মধ্যে মজুরি পরিশোধের বিধান থাকলেও গত এক বছর যাবত মাসিক মজুরী তিন কিস্তিতে পরিশোধ করেন, তাও আমরা মেনে নিয়েছি, নারী শ্রমিকদের মাতৃত্ব কল্যাণ সুবিধা প্রদান করা হয় না, মহিলা শ্রমিকরা সন্তানসম্ভবা হলে তাদেরকে চাকরীচ্যুত করা হয়েছে, শ্রমিকরা নিয়ম অনুযায়ী রিজাইন দিলেও পাওনা পরিশোধ করেন নাই মালিকপক্ষ দাবি কারখানার শ্রমিকদের।
শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলাকালে সারাদিন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এর কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া না গেলেও রাত আটটার দিকে উপমহাপরিদর্শক,জনাব আরিফুজ্জামান, সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন এবং আগামী বৃহস্পতিবার ৬ অক্টোবর ২০২২ ইন তারিখের শ্রম অসন্তোষ নিরসনে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক এর আশ্বাসে ঘরে ফিরে যান শ্রমিকরা। তবে বিক্ষোভ চলাকালে মালিকপক্ষের কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি।
এ সময় শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সাংগঠনিক সুবিধা দিচ্ছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, শফিউল আলম, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য লীগের নেতা আগুন শেখ, বাংলাদেশ প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের, মোস্তফা কামাল,শ্রমিক নেতা আব্দুর রহমান এবং গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় নেতা শামীম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ