মো.আব্দুল শহীদ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া গ্রামে ভূমি সংক্রান্ত বিরুদের জের ধরে চেয়ারম্যান পরিবারের বসত বাড়িতে হামলার ঘটনায় একই পরিবারের ২ জন আহত হয়েছেন। পহেলা ডিসেম্বর বিকেল ৪ টায় পেরুয়া গ্রামের বর্তমান চেয়ারম্যান পরিতোষ রায়ের বসত বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। আহতরা হলেন, প্রমত রায়ের ছেলে তীপদ রায় (৪০), প্রজেস রায়ের ছেলে বকুল রায় (৪৫)। গুরুত্বর আহত তীপদ রায়কে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বকুল রায় দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্য্রে চিকিৎসা গ্রহন করেছেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিত্তে দিরাই থানার সাব ইন্সপেক্টর অরুপ বিশ^াস রাজন দাসকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। গত ৩০/১১/২২ ইং তারিখে জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে ৮ জনকে অভিযুক্ত করে দিরাই থানায় ডায়রী করা হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকালে চেয়ারম্যান পরিবারের রেকর্ডীয় ভূমিতে সবজি চাষ করার জন্য নেট দিয়ে বেড়া দেওয়ার সময় পাশের বাড়ির যোগেস দাসের ছেলে সুরেশ দাস, রমেশ দাসের ছেলে নরেশ দাস, অনিল দাস (কাচাঁ),নগেন্ড দাস, কিরুদ দাস, সুরেশ দাসের ছেলে সুমন দাস, সুজন দাস, সুবীর দাস, কিরোধ দাসের ছেলে ঝোটন দাস, ছোটন দাস, নরেশ দাসের ছেলে রুবেল দাস, নগেন্ড দাসের ছেলে ই্রদয় দাস, অনিল দাসের ছেলে সঞ্জিত দাস ও রাজন দাস গংরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে খুপিয়ে চেয়ারম্যান পরিবারের লোকজনকে রক্তাক্ত জখম করে বসত বাড়িতে হামলা চালিয়েছে।
চেয়ারম্যান পরিতোষ দাস বলেন, চরনারচর ইউনিয়নের সতান্দপুর মৌজার, ২৭নং জেএলস্থিত, ৮৭০৮ নং দাগের ৫৬ শতাংশ আমার রেকর্ডীয় ভূমিতে শৈশ্য চাষ করার জন্য নেট দিয়ে বেড়া দেওয়ার সময় সুরেশ ও নরেশ দাস গংরা বাধাঁ সৃষ্টি করে। পরে বিষয়টি আমি এলাকার গন্যমান্য শালিশী ব্যক্তিদের অবগত করি। শালিশী ব্যক্তিগন উভয় পক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষের মতামত নিয়ে শালিশের দিন ধার্য করেন। শালিশ মহুর্তে সুরেশ ও নরেশ গংরা শালিশীদের কাছে আবারও নতুন ভাবে সময় চেয়েছিল। পরবর্তীতে শালিশী ব্যক্তিগন নিরুপায় হয়ে চেয়ারম্যান পরিতোষ দাসকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলেন। আমাদের পরিবারের লোকজনকে মারধর করে উল্টো মামলা দিয়ে আমাদেরকে হয়রানি করছে।
জগদল কলেজের অধ্যক্ষ পংকজ কান্তি রায় বলেন, ঘটনার দিন বিকেলে আমি কলেজে ছিলাম। প্রতিপক্ষ গংরা তাদের মামলায় আমাকে আসামী করেছে। মিথ্যা যড়ষন্ত্রমুলক মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।
গছিয়া সামছুউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সাগর কান্তি রায় বলেন, ঘটনার দিন ও সময়ে আমি বিদ্যালয়ে কর্মরত থেকেও ঘায়েবী মামলার আসামী হলাম। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আমাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
জামালগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্য্যালয়ের অফিস সহকারি তপন কুমার রায় বলেন, আমি জামালগঞ্জ অফিসে কর্মরত থাকাবস্থায় গায়েবী মামলার আসামী হয়ে গেলাম। জেলা পুলিশ প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীকে শাস্তি প্রদান করে আমাকে যড়ষন্ত্রমূলক মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য।
মধুপুর সরকারি প্রাঃ বিঃ প্রধান শিক্ষক সুজলা রাণী রায় বলেন, ঘটনার দিন বিকেল ৪ টায় আমি বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলাম। ৫ টায় বাড়িতে আসার পর জানতে পারি আমার পরিবারের লোকজনের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। অথচ আমাকেও মামলার আসামী করা হয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্টমন্ত্রীর আশুদৃষ্টি কামনা করছি।
ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী পলাশ কান্তি রায় বলেন, আমি ধর্মপাশায় থেকে বাদশাগঞ্জ কলেজে পড়াশুনা করি। ভ’মি সংক্রান্ত বিরুধের জের ধরে প্রতিপক্ষগংরা আমাদের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে হামলা চালিয়ে ভাংচুর সহ কুপিয়ে জখম করেছে। অথচ আমি ঐ গায়েবী মামলার আসামী।
সিলেট শাহজালাল ইউনির্ভাসিটির থ্রিপুলিং ইঞ্জিনিয়ার পুলক রায় বলেন, আমি সিলেটে থেকে পড়াশুনা করি। ঘটনার বিষয়ে আমাকে কেউ জানাননি। কিন্তু আমি ষড়যন্ত্রমূলক মামলার গায়েবী আসামী। পুলিশ প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
২নং ইউপি সদস্য মো ফতেনুর মিয়া বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা মিমাংসার জন্য অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। এক পক্ষ মানলে অন্য পক্ষ রাজি না। চেয়ারম্যান পরিবারের লোকজনের উপর যে মামলা করা হয়েছে তা পুরোপুরি সত্য নয় ষড়যন্ত্র।
দিরাই থানার এস,আই অরুপ বিশ^াস বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় রাজন দাস নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। ##

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ