সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক কলেজের শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন গোপনে দ্বিতীয় বিয়ের খবর শুনে প্রথম স্ত্রী স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর দাবিতে অনশনে বসেছে।

বুধবার ৫ জুলাই সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জেয়ালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।এ সময় স্বামীর দাবিতে অনশনে বসা রিমা খাতুন কে বেদম মারপিট করেছেন শাশুড়ি অর্থাৎ জাহাঙ্গীর হোসেন এর মা ও পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে জিয়ালা নলতা গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে মন দেওয়া নেওয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন উপজেলার রহিমাবাদ গ্রামের মোঃ রুস্তম সরদারের মেয়ে রিমা খাতুন। দীর্ঘ ১২ বছর প্রেমের পর উভয়ে খুলনা পড়াশোনা করা কালে ২৬-০১-২০১৯ তারিখে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহ করেন সেখান থেকে খুলনাঞ্চলে বছর খানেক সংসার করেন।
পরবর্তীতে উভয় পক্ষের অভিভাবকেদের তাঁদের উপস্থিতিতে ইং ১৭-০৫- ২০২১ তারিখে ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে রেজিঃ বিবাহ সম্পন্ন হয়।
যৌতুক লোভী মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনের নতুন চাকুরী বলে কথা, নতুন শহর চোখে রঙিন চশমা, তাও আবার সরকারি চাকুরী, রঙের শহরে চার পাশে অসংখ্য রঙ্গিন রমনীদের বিচরণ ।নারী লোভী এই প্রতারক খুব সহজেই খোলস পালটিয়ে রিমার উপর যৌতুকের দাবিতে অমানুষিক অত্যাচার নির্যাতন শুরু করেন। তার কারনেই জাহাঙ্গীর হোসেন কে আসামি করে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে, নারী শিশু -৫০/২২ নং এর একটি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় জাহাঙ্গীর হোসেন ইং ২৩-০২-২০২২ তারিখে মামলার বাদি রিমার সাথে সংসার করার জন্য মিমাংসা শর্তে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রাপ্ত হয়েন। এবং ইং ১৮-০৪-২০২২ তারিখে আদালতে আদেশ অমান্য করায় জাহাঙ্গীর হোসেন কে বিজ্ঞ আদালত জেল হাজতে প্রেরণ করেন,অতঃপর পুনঃ প্রতারক জাহাঙ্গীর হোসেন সংসার করার জন্য মিমাংসার শর্তে জামিন নেই। জাহাঙ্গীর হোসেন এতটাই চৌকস প্রতারক মামলার হাজিরার আগের কয়েকদিন বাদি রিমার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন এবং স্ব শরীরে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যান এবং রিমা কে মামলায় জামিনের বিরোধিতা না করতে বলেন এবং তাকে কয়েকদিন পর বাড়িতে নিয়ে যাবেন বলে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মামলার ধার্য্য তারিখ পরিবর্তন করেন।
স্বামীর ২য় বিয়ের খবর শুনে রিমা খাতুন চলে যান স্বামীর বাড়িতে। আর সেখানে গিয়ে রিমা মারপিটের স্বীকার হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ