কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং প্যানেল মেয়র -১ মুজিবুর রহমানের মা হামিদা বেগম ওরফে হামিদা খাতুন জন্মসূত্রে মিয়ানমারে নাগরিক হওয়ায় ভোটার তথ্য ফরমে নিজ মায়ের নাম গোপন করে মায়ের নামের স্থলে সৎ মায়ের নাম লিপিবদ্ধ করে এনআইডি কার্ড তৈরি করার মতো জঘন্য অপরাধ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্রে প্রকাশ, টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র -১ মুজিবুর রহমান প্রকাশ মৌলভী মুজিব টেকনাফ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডস্থ চৌধুরী পাড়ার বাসিন্দা মরহুম এজাহার মিয়ার ছেলে। মরহুম এজাহার মিয়ার স্ত্রীদের মধ্যে প্রথম স্ত্রী মালকা বানু। মালকা বানুর মৃত্যুর পর এজাহার মিয়া মিয়ানমারের মংডু থানার সুধার পাড়ার মৌলভী মোহাম্মদ ছিদ্দিকের ২য় মেয়ে হামিদা বেগম ওরফে হামিদা খাতুনকে বিয়ে করেন। পরবর্তী সময়ে এজাহার মিয়া হ্নীলার মুছনি এলাকার রাখাইন মেয়ে লাইসু রাখাইনকে ইসলামী শরিয়া মতে বিয়ে করলে লাইসু রাখাইন ধর্মান্তরিত হলে রাখাইন নাম পরিবর্তন করে মুসলিম নাম আয়েশা খাতুন রাখা হয়। সেই থেকে আয়েশা বেগম ওরফে আয়েশা খাতুন এজাহার মিয়ার স্ত্রী। এজাহার মিয়া মৃত্যু বরণ করার পর আয়েশা বেগম ওরফে আয়েশা খাতুন মৃত্যু বরণ করেন।
মরহুমা আয়েশা বেগম ওরফে আয়েশা খাতুনের ওয়ারিশ সনদ পাওয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে টেকনাফ পৌরসভার মেয়র সাক্ষরিত একখানা ওয়ারিশ সনদ প্রদান করেন। টেকনাফ পৌরসভার মেয়র প্রদত্ত আয়েশা বেগম ওরফে আয়েশা খাতুনের ওয়ারিশ সনদ মতে দেখা যায়, মরহুমা আয়েশা বেগম ওরফে আয়েশা খাতুনের ওয়ারিশ সনদে বর্ণিত তথ্যাদির সঠিকতা নিরূপণ করেন সংশ্লিষ্ট( ৭নং) ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুজিবুর রহমান। মরহুমা আয়েশা খাতুনের ওয়ারিশ সনদে মুজিবুর রহমান নামের কোন ওয়ারিশানের নাম উক্ত ওয়ারিশ সনদে উল্লেখ নেই।
টেকনাফ পৌরসভার মেয়র সাক্ষরিত, টেঃপৌঃ/ ওয়ারিশ সনদ /২০১৩/২৫৩ নং স্মারক মূলে প্রদত্ত ওয়ারিশ সনদ মূলে দেখা যায়, মরহুমা আয়েশা খাতুন স্বামী মরহুম এজাহার মিয়া সাং চৌধুরী পাড়া ০৭ নং ওয়ার্ড টেকনাফ পৌরসভা, থানা টেকনাফ, জেলা কক্সবাজার বিগত ১০/০৫/২০১০ ইংরেজি তারিখে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যু কালীন সময়ে তিনি ওয়ারিশ হিসাবে ১ ছেলে ৩ মেয়ে রেখে যান । ছেলের নাম শফিকুল ইসলাম এবং মেয়েদের নাম যথাক্রমে, নাছিমা আক্তার, আছমা আক্তার ও শামীমা আক্তার। মরহুমা আয়েশা বেগম ওরফে আয়েশা খাতুনের ওয়ারিশ সনদ মতে মুজিবুর রহমান নামের তার কোন ছেলে সন্তান নেই বা ছিলনা। কিন্তু মুজিবুর রহমানের এনআইডি কার্ডে মাতার নামের স্থলে যে আয়েশা বেগমের নাম উল্লেখ করা আছে সেই আয়েশা বেগম আসলে কে?
অনুসন্ধানে জানা যায়, মিয়ানমারের মংডু থানার সুধার পাড়ার বাসিন্দা মৌলভী মোহাম্মদ ছিদ্দিকের ৩ ছেলে ৫ মেয়ে। তৎমধ্যে হামিদা বেগম মৌলভী মোহাম্মদ ছিদ্দিকের ২য় মেয়ে। বড় ছেলে জমিল হোসন বর্তমানে মিয়ানমারের মংডুর সুধার পাড়াতে বসবাস করছে এবং সলিম নামের আরেক ছেলে সৌদি আরব রয়েছে বলে জানা যায়। ছৈয়দ হোছন নামের অপর ছেলে কোথায় আছে সঠিক ভাবে জানা যায়নি।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, মিয়ানমারের নাগরিক মৌলভী মোহাম্মদ ছিদ্দিকের ২য় মেয়ে হামিদা বেগমকে টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরী পাড়ার বাসিন্দা এজাহার মিয়া প্রকাশ এজাহার কোং বিয়ে করেন। এজাহার মিয়ার মৃত্যুর পর টেকনাফ পৌরসভা থেকে সংগৃহীত ওয়ারিশ সনদ সূত্রে দেখা যায় মরহুমা হামিদা বেগম স্বামী মরহুম এজাহার মিয়া সাং চৌধুরী পাড়া ওয়ার্ড নং ৭ টেকনাফ পৌরসভা, উপজেলা টেকনাফ, জেলা কক্সবাজার বিগত ২০/০৪/২০০৫ ইংরেজি তারিখে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যু কালীন সময়ে মরহুমা হামিদা বেগম এক ছেলে এক মেয়ে ওয়ারিশ হিসাবে রেখে যান বলে ওয়ারিশ সনদ পাওয়ার আবেদনে আবেদনকারী উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য এই ওয়ারিশ সনদের তথ্যাদিও সঠিকতা নিরূপণ করেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুজিবুর রহমান । টেকনাফ পৌরসভার টেঃপৌঃ/ওয়ারিশ সনদ/২০১৩/২৫১ নং স্মারক মূলে প্রদত্ত মরহুমা হামিদা বেগমের ওয়ারিশ সনদ মতে দেখা যায়, মরহুমা হামিদা বেগমের মেয়ে মনোয়ারা বেগম ও ছেলে মুজিবুর রহমান। উল্লেখ্য, মরহুমা হামিদা বেগমের রেখে যাওয়া ওয়ারিশ হিসাবে ছেলের নাম মুজিবুর রহমান উল্লেখ থাকলেও হামিদা বেগমের একমাত্র ছেলে মুজিবুর রহমানের এনআইডি কার্ড এ মায়ের নামের স্থলে হামিদা বেগমের নাম উল্লেখ নেই।
টেকনাফ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুজিবুর রহমান প্রকাশ মৌলভী মুজিবের এনআইডি কার্ড সূত্রে দেখা যায় পিতার নাম এজাহার মিয়া উল্লেখ থাকলেও মাতা হামিদা বেগম ওরফে হামিদা খাতুনের নামের স্থলে সৎ মায়ের নাম বা এজাহার মিয়ার অপর স্ত্রী আয়েশা বেগমের নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে।
মুজিবুর রহমান প্রকাশ মৌলভী মুজিবের এনআইডি কার্ড এ কেন নিজ মায়ের নামের স্থলে সৎ মায়ের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এর অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার কতৃক ছবি যুক্ত ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রনয়ণ কালীন সময়ে প্রকৃত বাংলাদেশী নাগরিকদের ভোটার হতে যে নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছিল সেই নীতিমালাতে উল্লেখ ছিল ভোটার উপযুক্ত ছেলে মেয়েদের ভোটার করতে হলে পিতা মাতা দুজনকেই বাংলাদেশের প্রকৃত নাগরিক হতে হবে। পিতা বাংলাদেশী হলে মাতা ভিন দেশের নাগরিক হলে অথবা মাতা বাংলাদেশী হলে পিতা ভিন দেশের হলে সেই পিতা মাতার সন্তানরা জাতীয় পরিচয়পত্র বা ছবি যুক্ত ভোটার তালিকাভুক্ত হতে পারবেনা। সেই নীতিমালা বর্তমানেও বলবৎ রয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
সেই সূত্রে টেকনাফ পৌরসভার বর্তমান কাউন্সিলর ও টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র -১ মুজিবুর রহমান প্রকাশ মৌলভী মুজিব ছবি যুক্ত ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ার বা জাতীয় পরিচয়পত্রের অধিকারী হতে পারেন না।
মুজিবুর রহমান প্রকাশ মৌলভী মুজিব ভোটার তথ্য ফরমে সঠিক তথ্য গোপন করে অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের প্রমাণ স্বরূপ এনআইডি ও ছবি যুক্ত ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছে। যাহা আইনগতভাবে মারাত্মক অপরাধ হিসাবে গণ্য করা যায়।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ