ঙ্গাইল মধুপুরের আনারসে আবারও সুদিন ফিরতে শুরু করেছে। ফলে লাভবান হচ্ছেন এখানকার কৃষকরা।সকালে সরেজমিন দেখা যায়, টাঙ্গাইলে মধুপুরের জলছত্র হাটে থরে থরে সাজানো রয়েছে বিভিন্ন সাইজের রসালো সুস্বাদু আনারস। মৌ মৌ গন্ধ ছড়িয়েছে পুরো এলাকায়। বিক্রিও জমজমাট। ট্রাক এবং পিকআপ ও রিকশা ভ্যানে করে এখানকার আনারস চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এমন বিক্রিতে খুশি বিক্রেতারা। যদিও সার ও কীটনাশকের মূল্য বাড়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের।এদিকে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ার কারণে ট্রাক ভাড়া বেশি হওয়ায় তেমন একটা লাভ করতে পারছেন না তারা।

আনারস হাটের ইজারাদার রফিকুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইলে মধুপুরের জলছত্র আনারস হাটে প্রতিদিন এক কোটি টাকার আনারস, কাঁঠাল ও কলাসহ অন্যান্য ফল বিক্রি হয়। দেশের সর্ববৃহৎ এ ফলের হাটে প্রতিদিন এতো লেনদেনের পরও কর্তৃপক্ষ দৃষ্টি না দেয়ায় নানা ভোগান্তি হচ্ছে তাদের।জানা যায়, ১৯৪২ সালের দিকে মধুপুরের গারো সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি হিমালয় থেকে প্রথম এ ফলের চারা নিয়ে এসে আনারস চাষ শুরু করেন। পরে এ আনারস বিক্রি করে তিনি অনেক লাভবান হন। পরবর্তীতে তার দেখাদেখি অন্যরা তার কাছ থেকে চারা নিয়ে চাষ করে লাভবান হন। প্রায় ১০ বছর পূর্বে কিছু কেমিক্যাল ব্যবসায়ীর প্ররোচনায় অধিক লাভের আশায় ফাঁদে পা দেয় কৃষকরা। আনারসের আকার ও লোভনীয় রং করতে মাত্রাতিরিক্ত কেমিক্যাল প্রয়োগে ঝুঁকে পড়েন তারা। এতে আনারসের স্বাদ ও গন্ধ দুটোই হারিয়ে যায়। আর সাধারণ ক্রেতারা আনারস খাওয়া থেকে অনেকটা মুখ ফিরিয়ে নেয়। এতে লোকসানে পড়েন কৃষকরা।

দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উঠান বৈঠকসহ নানা প্রচেষ্টায় কৃষকদের আনারসে কেমিক্যাল দেয়া থেকে নিরুৎসাহিত করতে সক্ষম হয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। বর্তমানে বেশিরভাগ কৃষক কেমিক্যাল ব্যবহার না করায় আনারসের স্বাদ ও গন্ধ ফিরে এসেছে। ফলে আবারও টাঙ্গাইলের আনারসের চাহিদা বাড়ছে। লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। বর্তমানে মধুপুর উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার একর জমিতে আনারসের চাষ হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ