মোঃ ইনছান আলী
ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের হরিণাকুতে নিখোঁজের ৪দিন পর হাফিজুর রহমান (৪০) নামে এক ব্যক্তির পঁচা-গলা মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে হরিণাকুন্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের কেষ্টপুর গ্রামের চরের মাঠের পাশে কাটাখালি খালের পাড় থেকে মাটির নিচে পুতে রাখা পলিথিনে মোড়ানো মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তি রিশখালি গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে এবং ৪ নং দৌলতপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাবদার রহমানের ভাতিজা। গত ৫ অক্টোবর রাতে সে নিখোঁজ হয়। এ বিষয়ে গত ৭ অক্টোবর নিহতের ভাই জাফিরুল ইসলাম হরিণাকুন্ডু থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।
জাফিরুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের দিন সন্ধ্যায় তার ভাবি পলি খাতুন ফোন করে ছেলের জন্য জিলাপি আনতে বলেন। এটিই ছিল ভাইয়ের সাথে স্ত্রী ও স্বজনদের শেষ কথা। ওইদিন বাড়িতে ফিরতে দেরি হওয়ায় রাত নয়টার দিকে ফের তার মোবাইলে কল দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
হরিণাকু-ু থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, নিখোঁজ ডায়েরির পর আমরা তার সন্ধানে কাজ শুরু করি। রোববার দুপুরে গ্রামের কয়েকজন মানুষ ওই খালে মাছ ধরতে যায়। তখন এক ব্যক্তি পানির নিচ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পায়। ওই মোবাইলের সূত্র ধরেই তার পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করে। সেসময় খালের ধারে নিহতের একটি পায়ের পাঁচ আঙ্গুল দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে হরিণাকুন্ডু থানা পুলিশ হাফিজুর রহমানের পলিথিনে পেচানো পঁচা-গলা মৃতদেহ উদ্ধার করে। অন্য কোথাও তাকে হত্যা করে ওই এলাকায় মৃতদেহটি পুতে রাখা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কারা কেন তাকে হত্যা করেছে তা এখনো জানা যায়নি। পুলিশ এ হত্যাকান্ডের ক্লু উদ্ধারে মাঠে নেমেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন শৈলকুপা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার অমিত কুমার। তিনি বলেন, হত্যাকারীরা কৌশলে হাফিজুর রহমানকে ডেকে এনে ঘটনাস্থল থেকে অন্তত দেড়শ‘ গজ দুরে তাকে হত্যা করে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে রক্তের চিহৃও রয়েছে। হত্যার পর পলিথিনে পেঁচিয়ে মৃহদেহ খালের ধারে নিয়ে মাটির নিচে পুতে রাখা হয়েছে। তদন্ত করে দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ