(নিজস্ব প্রতিবেদন)জমি লিখে দেবার কথা বলে স্ত্রীর সাথে প্রতারনা করলো স্বামী। ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধা জেলায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কুমার গাড়ি এলাকায়

ভুক্তভোগী স্ত্রী রূপালী বেগম জানায় আমার নাম রূপালী বাবার নাম আঃ রাজ্জাক মন্ডল
আমার সাথে আমার স্বামী দেনমোহর পরিশোধ করার জন্য জমি লিখে দিবার নামে প্রতারনা করেছে। আজ থেকে প্রায় সাত বছর আগে আমি ঢাকা একটা গার্মেন্টসে কাজ করতাম তখন পরিচয় হয় গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় কুমার গাড়ি এলাকার মোঃ এনতাজ আলীর ছেলে মোঃ এনামূল হক বিজুর সাথে , পরিচয় লগ্নে থেকে বিজু আমাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখাইয়া বিয়ের প্রস্তাব দেয় অনেক বার দেয়ার পর আমি রাজি হয়ে ১ লক্ষ ৮0 হাজার টাকা দেনমোহরে কামিন নামার মাধ্যমে আমাদের বিয়ে হয় । অল্প কিছু দিন বিবাহিত সংসার ভালোই চলছিল তখন আমার স্বামী আমাকে পুনরায় ঢাকায় নিয়ে আসে ‌তখন আমি আবার গার্মেন্টসে চাকরি করতে থাকি ও আমার ইনকাম দিয়েই সংসার চালাই স্বামীর যাবতী খরচ বহন করে আসতে ছিলাম কিছু দিন যেতে না যেতে আমার স্বামী আমাকে ঢাকা রেখে সে তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা চলে যায় ওখানে গিয়ে আমাকে বিভিন্ন রকম অজুহাত দিয়ে বলে কিছু দিন আমাকে আমার বাড়িতে থাকতে হবে তুমি একা ঢাকায় থাকো । নিরুপায় হয়ে আমি চাকরি করে সংসার চালাই মাসের শেষ বেতন পেয়ে বাকি টাকা স্বামীকে পাঠাই, এভাবে অনেক দিন চলে
হঠাৎ করে আমার সামী আমাকে বলে রূপালী আমার কখন কি হয়ে যায় বলা যায় না আমি তোমার দেনমোহর পরিশোধ করার জন্য তোমাকে তের শতাংশ জমি লিখে দিবো তুমি শুধু রেজিষ্টার খরচা তুমি দিবা তাহলে টাকা গুছিয়ে তুমি গাইবান্ধা আসো আমি টাকা গুছিয়ে গাইবান্ধা গেলে রাহুল নামের এক লোক কে সাথে নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ রেজিষ্টার অফিসে নিয়ে যায় ওখানের দলিল লেখক আঃ সালাম সরদার একটা কাগজে কি জানি লিখে আমাকে বলে ভাবী আপনার ভাগ্য খুলে গেছে এখানে আপনার স্বামী আপনাকে তের শতাংশ জমি লিখে দিয়েছে আপনি স্বাক্ষর করুন আর রেজিষ্টার খরচ ৪৫ হাজার টাকা দেন আমি সরল বিশ্বাসে ঐ টাকা ছবি আইডি কার্ড ফটো দিয়ে ঐ কাগজে স্বাক্ষর করি । তখন আমার স্বামী ও রাহুল উপস্থিত ছিল , সর্বশেষ আমার স্বামী আমার হাতে্ একটা তার নিজের লিখত কাগজ দিয়ে বলে আমার কিছু হয়ে গেলে তুমি এই কাগজ টি এই রেজিষ্টার অফিসে দিলেই তোমার দলিল তোমাকে দিয়ে দিবে । এই বলে আমাকে ওখান থেকে আবার ঢাকায় পাঠিয়ে দেয় , ঢাকা পৌছলে আমার স্বামী যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় কিছু দিন পর আমাকে ফোন দিয়ে বলে তুই আমার বৈধ স্ত্রী না কাবিন নামা নকল আমাদের কোন বিয়ে হয়নি । তুই আর কোনোদিন আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবিন না । এভাবে অনেক দিন চলে অবশেষে আমার সন্দেহ হয়েছে আসলেই কি আমাকে জমি লিখে দিয়েছে ? না প্রতারনা করে আমার কাছ থেকে টাকা নিলো এই ভেবে গোবিন্দগঞ্জ রেজিষ্টার অফিসে গিয়ে তার লেখা কাগজ টি অফিসে দিলে অফিস জানায় এ নাম ও তারিখের কোন দলিল হয়নি আমাদের অফিসে ঐ কাগজে লেখা ছিল আমার স্বামীর নাম রেজিষ্টার তারিখ ১৫/0৫/২0১৮ ও দলিল লেখক সালাম সরদারের নাম মৌজা নম্বর
তখন রেজিষ্টার অফিসের লোক সালাম সরদারের ফোন নাম্বার দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করতে বলে । দলিল লেখক সালাম সরদার কে ফোন দিলে প্রথমে তিনি অস্বীকার যান বলে এনামূল হক বিজু নামের কাউকে চিনি না আর আপনার দলিল আমি করিনি তবে আমার খাতা দেখে আপনাকে জানাবো ।
পরের দিন বলেন খাতায় আপনার কোন নাম নেই তবে এনামূল হক বিজু আমার শ্বশুর বাড়ির এলাকার লোক তার সাথে যোগাযোগ করে আমি জানাবো । প্রথমে বলছিলো বিজু কে চিনি না তারপর থেকে দলিল লেখক সালাম সরদারের সাথে আর যোগাযোগ করতে পারিনি । তিনিই আমার সাথে যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেন । তখন আমি রাহুল নামের এক লোকের সাথে ফোনে যোগাযোগ করি ঐ রাহুল আমার শ্বশুর বাড়ির পাশের বাড়ির লোক রাহুল দলিল লেখার দিন আমার স্বামীর সাথে আসছিলো । রাহুল কে জিঙ্গাসা করায় রাহুল বলে হ্যা আপনার দলিল তো হয়েছে আমি তো সাথে ই ছিলাম সালাম সরদার দলিল লিখে আপনার স্বাক্ষর ছবি ও দলিল খরচ নিয়েছিলো তখন তো আমি ওখানেই ছিলাম ঐ দিন তো অনেক বৃষ্টি ছিল গোবিন্দগঞ্জ রেজিষ্টার অফিসে তো আমরা ছিলাম যদি দলিল না ই করে তাহলে ওটা সালাম সরদার ও আপনার স্বামী বিজুর কারসাজি আমার তো কিছু করার নেই আপনি মামলা দেন আমি স্বাক্ষী দিবো । রাহুলের এই সব কথার কল রেকর্ড আমার কাছে আছে।
এর পর আমার স্বামীর সাথে এই দলিলের ব্যাপারে ফোন দিলে সে বলে কিসের দলিল তোকে কিসের জমি লিখে দিবো তুই যা করতে পারিস কর তুই তো আমাকে চিনো আমাকে তোর কিছু ই করার নেই । আমার সাথে সবসময় বড় মাপের লোক থাকে ।
রূপালী তখন বলে আমি এখন দেশের আইনের কাছে আমার বিচার দিবো আমার সাথে আমার স্বামী এভাবে অনেক ভাবে প্রতারনা করে আসছে আমি কি এর কোন প্রতিকার পাবো না ? আমি আইনেকে শ্রদ্ধা করি তাই আমি বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী মমতাময়ী মা শেখ হাসিনার কাছে আমার কষ্টের কথা গুলো পেশ করতে চাই । মমতাময়ী মায়ের কাছে আমার কথা গুলো যে ভাবে পৌছে তার জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ করছি আমার লেখাটা পৌছে দেয়ার জন্য ।
উল্লেখ থাকে যে আমার স্বামী আমাকে বিয়ে করার আগে তার প্রথম স্ত্রী কে ডিভোর্স দেয় ঐ স্ত্রীর দুটো মেয়ে আছে বর্তমান এক মেয়ে তার মায়ের সাথে আর এক মেয়ে আমার স্বামীর সাথে ই থাকে তিনি এখনো অনেক মেয়েকে বিয়ের আশ্বাস দিতেছে ।
যাই হোক ঐ দলিল লেখক সালাম সরদার ও আমার স্বামীর দলিল লেখার নামে প্রতারনা করে আমার কাছ থেকে খরচ বাবদ ৪৫ হাজার টাকা নেওয়া সহ সব ধরনের অপরাধের সুষ্ঠ বিচার চাই।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ