গাজীপুর মহানগর পুলিশের নতুন কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম যোগদানের এক মাসের মধ্যে মহানগরী এলাকাকে যানজট নিরসন করা ছাড়াও মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবীদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছেন।
গত ১৩ জুলাই যোগদানের পর এক সংবাদ সম্মেলনে নব পুলিশ কমিশনার যানজট মুক্ত নগর উপহার দেয়ার এবং মাদক নির্মূলকে তাঁর অন্যতম এজেন্ডা হিসেবে চিহ্নিত করেন । পরদিন থেকেই তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তার সকল কার্যক্রম শুরু করেন।

রবিবার (১৪ আগষ্ট) বিকেলে তিনি গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. দেলোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সদর ও অর্থ) মো. জিয়াউল হক, উপকমিশনার মো. জাকির হাসান, উপকমিশনার মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ, উপকমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারি কমিশনার (মিডিয়া) আবু সায়েম নয়ন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, যেকোন অপরাধজনক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রনে ‘ জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ চলছে।

তিনি আরো বলেন, যোগদানের পর থেকে ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কটি যানজটমুক্ত এবং মহাসড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে তিনি সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এই মহাসড়ক ব্যবহারকারী ৩৬ টি জেলার যানবাহন এবং জনগণকে অসহনীয় যানজটে আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত আসতেই সময় লাগত দুই থেকে আড়াই ঘন্টা এবং কখনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সড়ক দুর্ঘটনা ও অনাকাঙ্খিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তা সীমাহীন দুর্ভোগে রূপ নিত। মহাসড়কের পাশে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ, অবৈধ ইজিবাইক, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের ফলে এ পথে এখন যানবাহন যাতায়াতের সময় কমে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট লাগছে।

ব্যাটারীচালিত অবৈধ ইজিবাইক ও অটোরিক্সা চলাচল বন্ধে গত ১ মাসে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক গৃহীত অভিযানের ফলাফল হিসেবে ২হাজার ৮৭৫ টি ইজিবাইক ও অটোরিকশা ডাম্পিং, ১হাজার ৮২ টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা এবং ডকুমেন্টস্ প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ায় ১২৯ টি যানবাহন আটক করা হয়।

মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েও কাজ চলছে। ইতোমধ্যে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫৫ টি মামলা হয় যেখানে ১২৮ জন মাদকসেবী এবং মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় ২০০.২৫ গ্রাম হেরোইন, ২৪ কেজি ১৪০ গ্রাম গাঁজা, ৪ হাজার ৫০ পিস ইয়াবা, ৮৫.৫ মিলি লিটার চোলাই মদ, ৪৯৭ বোতল ফেন্সিডিল ও ১ বোতল হুইস্কি উদ্ধার করা হয়।

কমিশনার আরো বলেন, গত ১ মাসে ওয়ারেন্টভুক্ত ৩৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রবিরোধী যেকোন অপতৎপরতা মোকাবেলা করতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ