কালিয়াকৈরে বায়ারদের দৃষ্টিতে পরিবেশবান্ধব শিল্প ব্যবস্থাপনায় এপেক্স ফ্যাশন ওয়্যার বাধাগ্রস্থ।
নিজস্ব প্রতিনিধি: মো: জাহিদ হাসান

কালিয়াকৈর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডে কালামপুর মৌজায় স্থাপিত এপেক্স ফ্যাশন ওয়্যার লিঃ একটি শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরী পোষাক শিল্প। অর্ধলক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রসারিত হচ্ছে। এই কারখানাটি সরকারী নীতিমালায় উচ্চ অগ্রাধিকার প্রাপ্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় শিল্পনীতি ২০১৬ এর ৩ অধ্যায়ে বলা হয়েছে, উচ্চ অগ্রাধিকার শিল্প বলতে সে সমস্ত শিল্পকে বুঝাবে, যে সমস্ত শিল্পের দ্রুত প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এ খাত থেকে উল্লেখযোগ্য রপ্তানি আয় অর্জন করা সম্ভব হবে। উত্তরোত্তর উন্নয়নের লক্ষ্যে এ শ্রেণির শিল্পখাত সরকারের সুযোগ সুবিধা প্রাপ্যতায় প্রাধান্য পাবে। বেকার সমস্যা সমাধান ও দেশের চালিকা শক্তি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে যারা সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে, সেই শিল্পের অগ্রগতি আজ বাধাগ্রস্থ। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ব্যহত হচ্ছে।
এপেক্স ফ্যাশন ওয়্যার কর্তৃপক্ষ তাদের রপ্তানি বানিজ্যে পরিবেশ ও রাস্তাঘাট উন্নতি করার জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়সহ বিভিন্ন দপ্তরেও আবেদন করেছে। প্রতিদিন উক্ত প্রতিষ্ঠানটি ৪/৫ জন বৈদেশিক বায়ার ও দেশী/বিদেশী রিপ্রেজেনটিভ পরিদর্শন করেন। সকাল, দুপুর, বিকাল ও রাতে শ্রমিক পরিবহন যাতায়াত করে। সরেজমিনে দেখা যায়, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পয়নিস্কাশন, নিরাপদ রাস্তাঘাট, কারখানা চারপাশ অপরিবেশবান্ধব ও সবুজায়ন সহ আরো কিছু সমস্যা বিদ্যমান। কারখানার সামনের রাস্তাটি খুবই সরু। রাস্তায় দুটি পরিবহন বাস ক্রস করলে প্রায়ই দূর্ঘটনা ঘটে থাকে। কারখানার গেইট দিয়ে জরুরী রপ্তানি পণ্য পরিবহনে সমস্যা হয়। ট্রাক, কভার্ডভ্যান, লরি সহ অন্যান্য পরিবহন ঠিকমতো প্রবেশ করতে পারেনা। কারখানা গেইটে দেয়াল সংলগ্ন রয়েছে কয়েকটি টংঘর দোকানপাট ও একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্টি সম্প্রদায়ের বসবাস। বন বিভাগের জমিতে জবর দখল করে এসব গড়ে উঠেছে। দেয়ালঘেসে কারখানার উচ্চ শক্তি সম্পৃক্ত গ্যাসলাইন ভেতরে গেছে। এই গ্যাস লাইনের পাশে লাকড়ির চুলা জ্বলানো হয়। উচ্চ শক্তি সম্পৃক্ত গ্যাস লাইনের পাশে আগুন জ্বালানো বিপদজ্জনক। যে কোন মুহুর্তে এখান থেকে সমগ্র এলাকায় অগ্নিপাতের সুত্রপাত হতে পারে। এছাড়াও কারখানার পশ্চিম ও দক্ষিন পাশে বন বিভাগের জমিতে গড়ে উঠেছে কাচাঁ ছোটছোট দোকানপাট ও ঘরবাড়ী রয়েছে। উক্ত পরিবেশে পরিবেশবান্ধব গ্রীণ ফ্যাক্টরি গড়ে তোলা অসম্ভব। অভিজ্ঞমহল মনে করেন এলাকার উন্নয়নের কথা ভেবে সকলেরই এপেক্স ফ্যাশন ওয়্যানকে সহায়তা করা দরকার।
বৈদেশিক বায়ারদের দৃষ্টিতে এপেক্স ফ্যাশনের বর্তমান পার্শবর্তী পরিবেশ অপছন্দনীয়। এপেক্স ফ্যাশন ওয়্যার প্রতিষ্ঠানের আশে পাশের পরিবেশ সরকার ঘোষিত পরিবেশবন্ধাব শিল্প ব্যবস্থাপনার জন্য অন্তরায়। যদি বায়ারগণ কাজ না দেন তাহলে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকগণ বেকার হয়ে যাবে। এলাকার ক্ষুদ্র দোকানপাট, বাড়ি ভাড়া হবে না।
জাতীয় শিল্পনীতি ২০১৬ এর ১১ অধ্যায়ে রপ্তানিমুখী বা উচ্চ অগ্রাধিকার শিল্পের রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহন সকল ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া শিল্পনীতি ২০১৬ এর ১৪ অধ্যায়ে পরিবেশবান্ধব শিল্প ব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ রয়েছে। নীতিমালায় পরিবেশবান্ধব শিল্প ব্যবস্থাপনায় সরকারী সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তির কথা রয়েছে। জাতীয় শিল্পনীতির এই অধ্যায়ে শিল্প কারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণমুলক কর্মকান্ডে সক্রিয় ভাবে অংশ নিতে ব্যবসা সংগঠন, এনজিও, অন্যান্য সংগঠনকে উৎসাহিত করা হবে বলে উল্লেখ আছে।
উক্ত প্রতিষ্ঠানের এসব সমস্যার কারনে কারখানার সম্প্রসারণ কাজ চলছে ধীর গতিতে। এতে উন্নয়ন ব্যহত হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব গ্রীন ইন্ডাস্ট্রি প্রতিষ্ঠায় এপেক্স ফ্যাশন ওয়্যার লিঃ বদ্ধপরিকর। কোম্পানী কর্তৃপক্ষ সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য জাতীয় শিল্পনীতি ২০১৬ অনুসারেও স্থানীয় সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগসহ এলাকাবাসী সকলের সহযোগীতা প্রত্যাশা করেন।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ