নিজস্ব প্রতিনিধি

কারখানা খোলার দাবি নিয়ে ময়মনসিংহের কলকারখানা অধিদপ্তরে সামনে সকাল-সন্ধ্যা অবস্থান করেছেন রামপুর, ত্রিশাল,ময়মংমনসিংহে অবস্থিত দি রোজ গার্মেন্টস ডিজাইনার লিমিটেডের, শ্রমিকরা।

সকল বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ সহ বেআইনিভাবে বন্ধ রাখা কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে গতকাল ০২ অক্টোবর রবিবার ২০২২ ইং তারিখে সকাল ১০.০০ টা থেকে দিনভর ময়মনসিংহের, মাসকান্দা,কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক এর কার্যালয় এর সামনে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে এসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন দি রোজ গার্মেন্টস ডিজাইনার লিমিটেড ইউনিট 2 শ্রমিকরা।

অবস্থানকালে শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন গত ২১ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করে কারখানার প্রধান ফটকে কাজ বন্ধের বেআইনী নোটিশ দিয়েছে মালিকপক্ষ।
বন্ধ দেওয়ার দুইদিন আগেও নতুন শ্রমিক নিয়োগ নিয়োগ দিয়েছে,যদি কাজ না থাকে তাহলে মালিক কেন নতুন করে শ্রমিক নিয়োগ করলেন এই প্রশ্ন তুলেছেন অনেক শ্রমিক। শ্রমিকদের দাবি মালিক কারখানাটি রাতের অন্ধকারে বেআইনিভাবে বন্ধ করে দিয়েছেন যার কোন ভিত্তি নাই। মালিক কৌশল হলো পুরাতন শ্রমিকদেরকে ছাঁটাই করে নতুন করে নিয়োগ করে কারখানা পরিচালনার পরিকল্পনা করছেন মালিকপক্ষ দাবি শ্রমিকদের।
শ্রমিকরা বলেন পূর্বের সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করে গত ১ অক্টোবর ২০২২ তারিখে কারখানাটি খোলার কথা ছিল।কাজের উদ্দেশ্যে কারখানায় গিয়ে কারখানার প্রধান ফটকের তালা বদ্ধ দেখতে পাই এখন আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, বাড়ির মালিকরা ঘর ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে আমাদের কিছু করার নাই, হয় কারখানা খুলে দিবে নায়তো আমাদের সমস্ত পাওনাদি বুঝাই দিবে দাবি শ্রমিকদের।

শ্রমিকরা অভিযোগ করেন শ্রম আইনে সাত কর্মদিবসের মধ্যে মজুরি পরিশোধের বিধান থাকলেও গত এক বছর যাবত মাসিক মজুরী তিন কিস্তিতে পরিশোধ করেন, তাও আমরা মেনে নিয়েছি, নারী শ্রমিকদের মাতৃত্ব কল্যাণ সুবিধা প্রদান করা হয় না, মহিলা শ্রমিকরা সন্তানসম্ভবা হলে তাদেরকে চাকরীচ্যুত করা হয়েছে, শ্রমিকরা নিয়ম অনুযায়ী রিজাইন দিলেও পাওনা পরিশোধ করেন নাই মালিকপক্ষ দাবি কারখানার শ্রমিকদের।
শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলাকালে সারাদিন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এর কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া না গেলেও রাত আটটার দিকে উপমহাপরিদর্শক,জনাব আরিফুজ্জামান, সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন এবং আগামী বৃহস্পতিবার ৬ অক্টোবর ২০২২ ইন তারিখের শ্রম অসন্তোষ নিরসনে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক এর আশ্বাসে ঘরে ফিরে যান শ্রমিকরা। তবে বিক্ষোভ চলাকালে মালিকপক্ষের কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি।
এ সময় শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সাংগঠনিক সুবিধা দিচ্ছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, শফিউল আলম, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ- সম্পাদক, আগুন শেখ, বাংলাদেশ প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের, মোস্তফা কামাল,আব্দুর রহমান এবং গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের শামীম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ