শুক্রবার (২৩ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্পরক্ষা জাতীয় মঞ্চ আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে তারা এসব দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন শিল্প এলাকায় বেতন বোনাস পরিশোধের দাবিতে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে শ্রমিকদের নামে মামলা করার মত ঘটনাও ঘটতেছে যার প্রভাব শেষ মেশ সরকারের ঘাড়েই পড়ে।
তাই অবিলম্বে সকল মিল কারখানায় শ্রমিক – কর্মচারীদের বকেয়া বেতন- বোনাস পরিশোধ,আন্দোলন দমানোর জন্য অত্যবশ্যকিয় পরিসেবার নামে আইন পাশ বন্ধ করতে হবে,ঈদুল ফিতরের পরে যে সকল কারখানায় শ্রমিকদের কে বেআইনিভাবে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে তাদেরকে ঈদ বোনাসসহ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

গাজীপুরস্থ ডার্ড কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড এর গ্রেফতারকৃত শ্রমিকদের মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহার করে ডার্ড গ্রুপের আশুলিয়া হেমায়েতপুর কারখানা এবং গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর ডার্ড গার্মেন্টস কারখানার বেতন বোনাসা এবং বরখাস্তকৃত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহালসহ বেতন বোনাস পরিশোধ করারও দাবি জানান নেতারা।
এছাড়াও গাজীপুরা সাতাই অবস্থিত প্রিন্স জ্যাকেট সোয়েটার কারখানার প্রায় ৫০০ শত শ্রমিকের দুই মাসের বেতন এবং ঈদ বোনাস পরিশোধের দাবি,মেঘনা নীট গার্মেন্টসের শ্রমিকদের নামে মামলা প্রত্যাহার করে বেতন বোনাস পরিশোধের দাবি জানানো হয় মানববন্ধন থেকে।

তারা অভিযোগ করে বলেন শ্রমিকরা যে ঈদ বোনাস পায় তা বারতি ভাড়ার কারণে রাস্তায় রেখে বাড়িতে ফিরতে হয় তাই ঈদ যাত্রায় গাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রন করতে হবে। বক্তারা বলেন, করোনা পরবর্তী সময়ে রফতানি প্রবৃদ্ধি ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে রফতানিকারকদের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু শ্রমিকরা এর কোনো সুফল পায়নি। অথচ ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন ও নিত্যপণ্যের বর্ধিত মূল্যের বোঝা চেপেছে শ্রমিকদের ঘাঁড়ে। শ্রমিকের প্রকৃত মজুরি অর্ধেকে নেমে যাওয়ায় জাতীয় মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধির বিপরীতে শ্রমিকেরা অপুষ্টি আর অনাহারে অমানবিকভাবে জীবন-যাপন করছে।

তারা আরও বলেন, আইএলও কনভেনশন ১৩১ এ বলা হয়েছে, ন্যূনতম মজুরি অবশ্যই আইন দ্বারা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিক ও তার পরিবারের প্রয়োজন, জীবনযাত্রার ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা ইত্যাদিকে বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান বাজার অবস্থার প্রেক্ষাপটে গার্মেন্টস শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের মজুরি ২৪ হাজার টাকার নিচে হলে, তা কোনোভাবে ন্যায্য মজুরি হবে না। আমরা সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম বেসিক ১৬ হাজার ও মোট মজুরি ২৪ হাজার টাকা ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। বক্তারা মনে করেন মজুরি নির্ধারিত হলে তৈরি পোশাক শিল্প নিয়ে দেশে বিদেশে যে নেতিবাচক প্রচারণা রয়েছে তা বন্ধ হবে এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ প্রচারণার দ্রুত সাফল্য অর্জিত হবে।

তাদের দাবি:- গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য বেসিক ১৬ হাজারসহ মোট ২৪ হাজার ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করতে হবে; গার্মেন্টস শ্রমিকদের ৩টি গ্রেডসহ বার্ষিক ১০ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ঘোষণা করতে হবে; গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য অল্পমূল্যে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ৬ মাসের মাতৃকালীন ছুটির আইন পাশ করতে হবে; বাংলাদেশ শ্রম আইনের সব কালাকানুন আইন বাতিল করে গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন করতে হবে।

গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্পরক্ষা জাতীয় মঞ্চের আহ্বায়ক আবুল হোসাইনের সভাপতিত্বে শ্রমিক সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম সুজন,শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুন নাহার,সুমাইয়া ইসলাম,সালেহা ইসলাম শান্তনা,তপন শাহ, আল আমিন,শফিউল আলম,শাহ আলম,হামিদ সরকার,আব্দর রহমান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, তৈরি পোশাক শিল্পে ক্রিয়াশীল ১৫টি সংগঠনের সমন্বয়ে ২০০৫ সালে গঠিত হয় গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চ।
পোস্টটি শেয়ার করুনঃ