এম,ডি রেজওয়ান আলী, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:- আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভে মানুষ ব্যস্ত হয়ে পড়ে বিশেষ করে মাহে রমজান মাসে। সব সময় মানুষ তার কৃতকর্মের জন্য আল্লাহ তায়ালার নিকট পানাহ চেয়ে দোয়া করে থাকেন। দোয়া হল একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। দোয়া ইবাদতের মূল।
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,এই মাসে বেশি করে এই দোয়া পাঠ করতেন
أستغفر الله الذي لا إله إلا هو الحي القيوم وإليه الرجوع.
আস্তাগফিরুল্লাহ হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম ওয়াতুবু ইলাইহি। অর্থ :-আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই,তিনি ব্যতীত ইবাদতের উপযুক্ত কেউ নেই,তিনি চিরঞ্জীব ও চিরন্তন এবং আমি তাঁর কাছেই ফিরে আসি। দোয়া ছাড়া ইবাদত অস্পূর্ণ থাকে যায়। যে কোনো সময় যে কোনো দোয়া পড়া যায়। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রসুল সা.আমাদের দোয়া শিখিয়েছেন। যে কোনো সময় যে কোনো দোয়া পড়া যায়। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রসুল সা. আমাদের অনেক দোয়া শিখিয়েছেন।
এ বিষয়ে মুফতি আবদুল্লাহ তামিম বলেন,
يَا وَاسِعَ الْمَغْفِرَةِ اِغْفِرْ لِيْ
ইয়া ওয়াছেয়াল মাগফেরাতি ইগফির্‌লি। অর্থ:-হে মহান ক্ষমাকারী! আমাকে ক্ষমা করুন। ইফতারের সময় এই দোয়া অনেক উত্তম-اَللّٰهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلٰى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফত্বারত্‌ অর্থ:-হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্যেই রোজা রেখেছি এবং আপনার রিজিক দ্বারাই ইফতার করছি। এবিষয়ে হযরত আবু হুরায়রা রা.থেকে বর্ণিত,নবী সা.বলেছেন,
তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়ে থাকে।
যদি সে তাড়াহুড়া না করে আর বলে যে,আমি দোয়া করলাম, কিন্তু আমার দোয়া তো কবুল হলো না। (বুখারি ৬৩৪০) হাদিসে এসেছে,হযরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি,কোনো ব্যক্তি (আল্লাহর কাছে) কোনো কিছু প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাআলা তাকে তা দান করেন। অথবা তদানুযায়ী তার থেকে কোনো অমঙ্গল প্রতিহত করেন।
যতক্ষণ না সে কোনো পাপাচারে লিপ্ত হয় বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য দোয়া করে। (তিরমিজি) রসুল সা.বলেছেন,যদি কেউ চায় যে বিপদের সময় তার দোয়া কবুল হোক,তাহলে সে যেন সুখের দিনগুলোতে বেশি বেশি দোয়া করে (তিরমিজি ৩৩৮২)। ইসলাম শান্তির ধর্ম। মানব জাতির একমাত্র কল্যানের ধর্ম। ইসলামের প্রত্যেক ইবাদতে রয়েছে মানুষের কল্যানের নিগুঢ় রহস্য।
হযরত তামীম দারী রা.বলেন রাসুল সা.বলেছেন ‘দ্বীন হলো (সৃষ্টিকুলের) কল্যাণকামিতা (সহিহ মুসলিম ৫৫)। এই ধারাবাহিকতায় পবিত্র মাহে রমজান আমাদেরকে মানুষের সাথে সামাজিকতার বিশেষ কিছু পাঠ শিক্ষা দেয়। উপহার দেয় মানবতার বার্তা। পবিত্র মাহে রমজান আমাদেরকে মানুষের সাথে সামাজিকতার বিশেষ কিছু পাঠ শিক্ষা দেয়। গরীবের কষ্ট অনুধাবন হয় এই রমজান মাসে। সওম বা রোজা হলো সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিজেকে সংযত রাখা।
অভুক্ত-অনাহারে থেকে একধরনের সাধনা করা হলো রোজার মৌলিক প্রতিপাদ্য। ক্ষুধার্ত মানুষ বছরের ১২টা মাস কীভাবে কাটায় রোজা আমাদের মাঝে সে উপলব্ধি জাগ্রত করে। বিশ্বব্যাপী মানুষ নিজের সুখ,নিজের সমৃদ্ধি নিয়েই ব্যস্ত থাকে। পুঁজিবাদী সমাজ ব্যক্তিকে করে তুলেছে আত্মস্বার্থনির্ভর দ্বিপদবিশিষ্ট এক অদ্ভুদ প্রাণি হিসেবে। রোজা এ ধরণের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে অনাহারি অভুক্ত মানুষের কথা ভাবতে শেখায়। নবীজি মানুষকে আহার করানোর জন্য বিভিন্ন ভাবে উদ্বুদ্ধ করেছেন। রমজানে মন ভরে ইফতার বিলাতে হবে।
রোজাদারকে ইফতার করানোর মধ্য দিয়ে মানুষকে আহার করানোর একটি মানসিকতা তৈরি করতে হবে। মাহে রমজানে আল্লাহর দরবারে দোয়া করার মোক্ষম সময় সে জন্য রমজানে নবীজি সবচেয়ে বেশি দান করতেন। ঘরের ব্যস্ততা সত্তেও নারীদের যেভাবে কাটানো উচিত মাহে রমজানকে তিন দশকে ভাগ করা হয়েছে। এই মাহে রমজান মাসে পরিচিত- অপরিচিত সবার প্রতি সমান ভালোবাসা নিয়ে ইফতার বিলাতে হবে। অপরের পাশে দাঁড়ানোর এই মূল্যবান মানসিকতার মধ্য দিয়ে আভিজাত্যের একটা চর্চা নিজেদের জীবনে সৃষ্টি হয়ে থাকে।
হযরত যাইদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী রা.হতে বর্ণিত আছে,তিনি বলেন,রাসুল সা.বলেছেন,কোন রোযা পালনকারীকে যে লোক ইফতার করায় সে লোকের জন্যও রোযা পালনকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব রয়েছে। কিন্তু এর ফলে রোযা পালনকারীর সাওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। (ইবনে মাজাহ:১৭৪৬) মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করা একটি ইবাদত। হাদিসে বলা হয়েছে, তোমাদের মাঝে সর্বোত্তম সে যার আচরণ ভালো,যার চরিত্র সুন্দর’। রমজান মাসে মানুষের প্রতি সুন্দর আচরণের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নবীজি হাদিস শরীফে বলেছেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ’الصِّيَامُ جُنَّةٌ فَلاَ يَرْفُثْ وَلاَ يَجْهَلْ وَإِنْ امْرُؤٌ قَاتَلَهُ أَوْ شَاتَمَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ مَرَّتَيْنِ
হযরত আবু হুরায়রা রা.বলেন রাসুল সা.বলেছোন সিয়াম ঢাল স্বরূপ। সুতরাং অশ্লীলতা করবে না এবং মূর্খের মত কাজ করবে না। যদি কেউ তার সাথে ঝগড়া করতে চায়,তাকে গালি দেয়,তবে সে যেন দুই বার বলে,আমি সওম পালন করছি’। (সহিহ বুখারি:১৮৯৪,মাহে রমজানে সকলে সকলের তরে মিশে আল্লাহর নৈকট্য লাভে এগিয়ে যাক এই রইল আমার একমাত্র প্রার্থনা।।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ