এম,ডি রেজওয়ান আলী বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:- ভূমি আইন উপেক্ষা করে বিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন আবাদী জমিতে এস্কেভেটর ভেকু মেশিন দিয়ে পুকুর খননের মহোৎসব চলছে। আবাদী জমিতে মাটি কেটে পুকুর খননের ফলে একদিকে যেমন কৃষি জমি কমে ফসল উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। অপরদিকে সেইসব খনন করা জমির চার পাশের ফসলি জমির উৎপাদন মারাত্মক ক্ষতির সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। এক শ্রেণির অসাধু মাটি ব্যবসায়ীরা গ্রামের সহজ সরল মানুষকে পুকুর খননে উৎসাহিত করছেন। পুকুর খননের কারণে এ উপজেলায় দিন দিন আবাদী কৃষি জমি আশংকাজনক হারে কমে যাচ্ছে। ফলে আগামীতে খাদ্য ঘাটতির আশংকা রয়েছে। দিনাজপুরে শস্য ভান্ডার বলে খ্যাত বিরামপুর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলে বিশা ফসিল জমির মাঠ রয়েছে। এসব ফসলি প্রায় জমিতে রোপা আমন,ইরি বোরো রবিশস্যসহ তিনটি করে আবাদ হয়ে থাকে। আমন মৌসুমে ৩৬ হাজার ৫৪২ মেট্রিক টন ও ইরি বোরো মৌসুমে ৫৪ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়ে থাকে। এতে অত্র উপজেলার খাদ্য চাহিদা পুরন করেও অতিরিক্ত খাদ্য দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে। অথচ কিছু অসাধু ব্যক্তি এসব আবাদী জমিতে পুকুর খনন করে আবাদী জমি কমে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত করছেন।সরকারিভাবে আবাদি জমিতে পুকুর খনন কিংবা জমি কেটে মাটি বা বালি উত্তোলন নিষিদ্ধ থাকলেও বিরামপুর
উপজেলার বিরামপুর পৌরসভা,দিওড় খানপুর,পলিপ্রয়োগপুর,মুকুন্দপুর, কাটলা,জোতবানী,বিনাঈল ইউনিয়নে প্রতিদিন ভেকু মেশিন দিয়ে আবাদি জমি কেটে পুকুর খনন ও মাটি বিক্রয়ের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। বিভিন্ন মাঠে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে তারা আবাদী জমিতে এস্কেভেটর বা ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে গভীর গর্ত করে পুকুর তৈরি করছেন। আবার কেউ পুরাতন পুকুর সংস্কারের নামে ভেকু মেশিন দিয়ে গভীর করে মাটি কেটে আবাদী জমি ভরাট ও মাটি বিক্রি করছেন। আবাদী জমির মালিক ও ভেকু ব্যবসায়ীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অবাধে এসব আবাদী জমির মাটি কেটে ট্রাক্টর যোগে অন্যত্র বিক্রি করছে। আবাদী জমিতে মাটি কেটে পুকুর খনন করায় একদিকে যেমন কৃষি জমি কমে ফসল উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। অপরদিকে সেইসব খনন করা জমির চার পাশের ফসলি জমির ফসল উৎপাদন মারাত্মক ক্ষতির সম্ভবনা দেখা দিচ্ছে। এ ভাবে আবাদী জমি কেটে পুকুর খননের মহোৎসব চললে আগামীতে আবাদী জমি কমে খাদ্য ঘাটতির আশংকা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট গন জানান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গন জানান,মাটি বহনের কারনে গ্রামীন বিভিন্ন কাঁচা ও পাকা সড়ক অবাদে নষ্ট হতে চলেছে। আবাদী জমিতে মাটি ভরাটকারি দিওড় ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামের মফেল মন্ডলের ছেলে মোঃ রবিউল ইসলাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত ষ্টোরকিপার বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আইনে আবাদী জমি নষ্ট করে মাটি ভরাট করা যাবেনা তা আমার জানা নেই। আমি তো আমার পুরাতন পুকুর খনন করছি এতে আবার আইনে কি সমস্যা আছে। প্রয়োজনে প্রশাসনের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হবে। কিন্তু তিনি গত ১০ ফেব্রুয়ারী থেকে অদ্য পর্যন্ত পুকুরে মাটি কাটা ও মাটি বিক্রয় অব্যাহত রেখেছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার জানান,
ফসলি জমির মাটি কেটে পুকুর খনন করা যাবে না। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহি অফিসারকে অবহিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইউএনও জানান,যদি কেউ অবৈধভাবে কৃষি জমিতে পুকুর খনন বা মাটি ভরাট করেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ