বিশেষ প্রতিনিধি:
যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া বউ বাজার সংলগ্ন সরকারি কলোনীর জমিতে বসবাস করেন অসহায় ভিক্ষুক হারুনর রশিদ। ভিক্ষুকের থাকার ঘর কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে নওয়াপাড়া হিজবুল্লা দাখিল মাদ্রাসার ভবন। হঠাৎ ওই অসহায় ভিক্ষুকের রাতে মাথা গোজার ঘরটি জবর দখল করে নেন হিজবুল্লা দাখিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। ফলে অসহায় ভিক্ষুক মাথা গোজার ঠাই রাতে ঘুমানোর স্থানটি হারিয়ে ফেলেছে। তার স্থান হয়েছে এখন রেল স্টেশনের প্লাটফর্ম অথবা চায়ের দোকানের বেঞ্চ। ঘটনা ক্রমে সরেজমিনে একাধিক মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হিজবুল্লা দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে থেকে ভিক্ষুক হারুনর রশিদ তার মা’সহ পরিবার নিয়ে সরকারি কলোনীর জমিতে ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করে বসবাস করতেন, পরে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ওই জমি থেকে মাদ্রাসার প্রয়োজন হলে বাঁধে বিপত্তি, পরে তৎকালীন মাদ্রাসার সভাপতি আলহাজ্ব ভবনের দক্ষিণ পূর্ব কোনায় ভিক্ষুক হারুনর রশিদের থাকার জন্য একটি ঘর আলাদা করে নির্মাণ করে দেওয়া হয় যা এযাবত কাল ওই ঘরে ওই ভিক্ষুক বসবাস করে আসছে। হঠাৎ মাদ্রাসা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হলে ওই ভিক্ষুকের ঘর দখল করে ছাদ ঢালাই পিলার উঠিয়ে দখল করে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা বাঁধা দিলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বসে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা করার আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী চুপ হয়ে যায়। অসহায় হারুন উপজেলার বুইকরা নওয়াপাড়া হিজবুল্লা দাখিল মাদ্রাসা এলাকার মৃত- আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
জরুরি ভাবে মাদ্রাসা ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগে ভিক্ষুক হারুনর রশিদের ঘর ফেরত অথবা তার বাসস্থান তৈরি করে দিতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করেছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে অসহায় হারুনর রশিদ বলেন, আমি দীর্ঘদিন ওই জমিতে বসবাস করি, আগে একবার আমার জমি দখল করতে গেলে ব্যাচা দাদা ও মালেক সাহেব আমার জমি দখল করতে দেয়নি তারা আরো আমাকে লিখিত কাগজ করে দিয়ে ঘর নির্মাণ করে দেন, এখন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আমার ঘর-জমি দখল করে নিচ্ছে, আমি এখন থাকবো কোথায়? আমি আমার জমি ঘর দখল মুক্ত ফেরত চাই। এবিষয়ে নওয়াপাড়া হিজবুল্লা দাখিল মাদ্রাসার সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ভিক্ষুকের ঘর- জমি কেনো দখল করা হচ্ছে এবিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবোনা, আপনি আলাউদ্দিনের কাছে জিগ্যেস করেন, আমি ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি আছি। এবিষয়ে আলাউদ্দিন বলেন, হারুন দীর্ঘদিন ওখানে আছে থাকবে তার একটা থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে। এবিষয়ে নওয়াপাড়া হিজবুল্লা দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি রেজাউল বিশ্বাস বলেন, মাদ্রাসার অংশ সংস্কার করার জন্য দুস্থ হারুন ভিক্ষুককে সাময়িক ভাবে একই মাদ্রাসার অন্য কক্ষ ব‍্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে, পূর্বের কর্তৃপক্ষ রেজুলেশন দ্বারা তাকে থাকার ব‍্যবস্থা করে দিয়েছিল। বর্তমানে আরেকটি রেজুলেশন করে তাকে থাকার ব‍্যবস্থা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাইরে ২/৩ শতক জমি তার নামে ক্রয় করে দেওয়ার চিন্তা ভাবনা চলছে।
এবিষয়ে অভয়নগর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছু জানিনা, খোঁজ নিয়ে দেখবো, আর কেউ যদি এবিষয়ে অভিযোগ করেন তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ