অভয়নগরে লাগামহীন দ্রব্যমুল্যের বাজার

মোঃ কামাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি

যশোরের অভয়নগরে লাগামহীন দ্রব্যমুল্যের বাজার, সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে মানুষের বোবা কান্নার শেষ কোথায়। সরকারি পক্ষ থেকে বাজারের দ্রব্যমুল্যের লাগাম টেনে ধরার নানা পদক্ষেপ গ্রহন করলেও কিছুতেই অসাধু মুনাফালোভি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কবল থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। এমনকি সরকারি ঘোষণাকে থোড়াই কেয়ার করেনা এসব অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে সকল নিত্যপণ‍্য, যে কারনে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে এবং তাদের বোবা কান্নার শেষ হচ্ছেনা। ফলে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের লাগামহীনভাবে ইচ্ছে মতো জিনিসপত্রের দামের কারণে ক্রমেই মানুষের নিত্যপণ‍্য জিনিস ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। যে কারনে উপজেলার সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে বিলাপ করা ছাড়া কোন উপায় পাচ্ছেনা। একদিকে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সরকারি আদেশকে যেমন বৃদ্ধাংগুল দেখাচ্ছে অন্যদিকে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে লাখ লাখ টাকা লুটে নিচ্ছে কৌশলে। উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আলুর মূল্য এক এক বাজারে এক এক ধরনের, কোথাও ৫০টাকা কেজি আবার কোথাও ৬০ টাকা কেজি, কোথাও ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর কাঁচা মরিচের কথা বলার অপেক্ষা রাখেনা, সকালে ৭০ টাকা কেজি বিকালে ৯০ টাকা কেজি। অন্যদিকে পেঁয়াজের বাজারে আগুন হঠাৎ পেঁয়াজের মুল্য বৃদ্ধি হওয়ায় মানুষ নাজেহাল হয়ে পড়েছে। নওয়াপাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে পেঁয়াজের মুল্য কিছুটা কম হলেও মফস্বল এলাকার ছোট ছোট বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজ বিক্রি করছে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি। গরুর মাংসের অবস্থাও একই কোথাও ৬৮০ আবার কোন কোন বাজারে গরুর মাংস ৭০০ টাকা কেজির অধিক বিক্রি হচ্ছে। এমনি ভাবে সিন্ডিকেট করে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা হচ্ছে কোটিপতি আর নিন্মবিত্তের অবস্থা নাজেহাল। নওয়াপাড়া নূরবাগ রেল ক্রসিং এলাকায় মাংস বিক্রেতা হেদায়েতউল্লাহ কে ৬৫০ টাকা মাংস বিক্রির মূল্য নির্ধারণ হলেও ৭০০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন কেন তিনি বলেন সরকারকি আমাকে টাকা দিয়ে যায় নাকি যে সরকারি আদেশ মানবো, আমি যেমন গরু কিনবো তেমনই গরুর মাংস বিক্রি করবো এটা আমার ইচ্ছে। এমন বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায় বাজারে প্রতিটি নিত্যপণ‍্য এক এক দোকানে এক এক রকমের মুল্য বিক্রি করা হচ্ছে যে কারনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ অভয়নগরের প্রতিটি বাজার কঠোরভাবে মনিটরিং করা এবং অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা। নওয়াপাড়া বাজারে বাজার করতে আসা মোঃ সেলিম হোসেন জানান, গত দুইদিন আগে পেঁয়াজ কিনেছি ১১০ টাকা কেজি, এখন সেই পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি আর অন্য জিনিসের দামের তো কথা তো বলার অপেক্ষা রাখেনা। কিছুদিন আগেও নিত‍্য পণ‍্যের মূল্য এমন লাগামহীন ছিলনা, যা কিনেছি ১০০টাকায় সে জিনিসের মুল্য এখন ৪০০টাকা। নামপরিচয় না প্রকাশের শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের যেমন ভাবে মাল কিনতে হয় তেমন ভাবে বিক্রি করতে হয়। সরকার আলু ৩৬ টাকা মূল্য বেঁধে দিলেও আপনি ৫০ টাকা কেন বিক্রি করছেন? তার উত্তরে ব্যবসায়ী জানান, আমার কিছু করার নেই, বড় বড় আড়ৎদারের কাছ থেকে যেমন দামে কিনে আনবো তেমনই তো বিক্রি করবো, এখানে আমার দোষ কোথায়? এমন অভিযোগ অনেক খুচরা বাজারের বিক্রেতাদের থাকলেও বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় যার যেমন সে তেমনভাবে গড়ে তুলেছেন বাজার সিন্ডিকেট। ফলে, সেই কবলে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। জরুরি ভাবে বাজার মনিটরিং সহ নিত্যপণ‍্য জিনিসের মূল্য নির্ধারণ ও বাজার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আসু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।
এবিষয়ে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আবু নওশাদ বলেন, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে, অনিয়ম পেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে, নিয়মিত মনিটরিং ও অভিযান অব্যহত আছে।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ